Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

সবার বাজেট, টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

BN DESK
29 August 2026, 01:50 AM পড়তে ১ মিনিট
সবার বাজেট, টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘সবার জন্য’ বলে অভিহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, চাকরিজীবী, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সমাজের কোনো অংশকে বাদ দিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়নি। অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই বাজেটের প্রেক্ষাপট, চিন্তা ও দর্শন সম্পূর্ণ আলাদা, যা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিনিয়োগের নতুন বার্তা

অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজেট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিনি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, কেবল নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব করা হয়, যা দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এবং ৫৫তম জাতীয় বাজেট। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার করে এই বাজেট পেয়েছে। আওয়ামী আমলে দেশের প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তাই সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট করা কঠিন ছিল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে অর্থের অপচয় রোধ করে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

 

কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কৌশল

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাজেটে বিনিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি), শিল্প খাত, কৃষি এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিস্তারিত পরিকল্পনা বাজেটে তুলে ধরা হয়েছে। কর্মসংস্থান এমনিতেই হয় না, তা তৈরি করতে হয়, আর এর জন্য বিনিয়োগ অপরিহার্য। শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় বরাদ্দ দেওয়ার মূল কারণ দক্ষতা উন্নয়ন বা 'স্কিল ডেভেলপমেন্ট'। দক্ষ জনশক্তির জন্য দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগ তৈরি হওয়া সহজ হবে বলেও তিনি জানান।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ পুলিশ, র‌্যাব (র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) বা সরকারি লোকজন দিয়ে হয় না। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সঠিক নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। সঠিক নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সরকারি কর্মকর্তাদের আয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতি দমনের প্রত্যাশা

সরকারি কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় এগারো বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাড়ানো হয়নি, অথচ এই সময়ে মূল্যস্ফীতি বা জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের অভাব থাকলে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের আয় বাড়লে তাদের জীবনমানের উন্নতি হবে এবং দুর্নীতিও কমবে বলে তিনি আশা করেন।

 

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও অর্থায়ন কাঠামোতে পরিবর্তন

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। 'রুল বেজড ইকোনমিক অর্ডার' (নীতিভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা) থেকে বিশ্ব এখন 'প্রোটেকশনিস্ট অর্ডার' (সংরক্ষণবাদী ব্যবস্থা)-এর দিকে ঝুঁকেছে। যুদ্ধ-বিগ্রহ এখন 'নিউ নরমাল' (নতুন স্বাভাবিক) অবস্থায় পরিণত হওয়ায় বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। এই চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি, কারণ বিগত সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে যে পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেছে, তা এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

দেশের অর্থনৈতিক প্রোগ্রামিং ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার আগের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। অর্থমন্ত্রী জানান, স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ধীরে ধীরে কমিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ বাড়ানো হবে। কারণ, সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত করে, যাকে অর্থনীতির ভাষায় 'ক্রাউডিং আউট' বলা হয়। তবে, এই পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয় এবং সরকার ধীরে ধীরে এই পথে এগোচ্ছে।

অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস জোরদার করছে। সম্প্রতি প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ইস্যু করা হয়েছে, যেখানে সাড়ে ৭২ হাজার কোটি টাকার আবেদন জমা পড়েছে, যা বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের প্রতি মানুষের আগ্রহের প্রমাণ।

 

ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বেরিয়ে গেছে। এমনকি এক-তৃতীয়াংশ আমানত চুরি হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা পেতে শুরু করেছেন বলেও গভর্নর জানান।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

সবার বাজেট, টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

B
BN DESK | 13 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার