রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিক্রিয়া এসেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই পদত্যাগকে স্বৈরাচারের অবসান হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে 'ফ্যাসিবাদের দোসর' অভিহিত করে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে এক অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেল, এর জন্য আমরা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।” তিনি উল্লেখ করেন, কী কারণে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই, কারণ এই পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা তিনি আগেই হারিয়েছিলেন।
নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি সম্পূর্ণ ন্যায়নিষ্ঠ হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি একটি কথাও বলেননি, তাই সেই অপরাধের দায়ভার তাকেও নিতে হবে।”
বিচারের দাবিতে এনসিপি ও খেলাফত মজলিস
একই দিন সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিক্রিয়া জানান দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা মূলত একটি 'নিরাপদ প্রস্থান' বা আইনি সুরক্ষা তৈরির কৌশল।
আখতার হোসেন জোর দিয়ে বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, সাহাবুদ্দিনের মতো ফ্যাসিবাদের সহযোগীকে বিচারের আওতায় না আনলে তাদের রক্ত ও শহীদদের ত্যাগ অপূর্ণ থেকে যাবে।”
এদিকে পৃথক এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বিদায়ী রাষ্ট্রপতি তার পদে থাকার রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতা হারিয়েছিলেন। তারা বলেন, শুধু পদত্যাগের মাধ্যমেই তার দায়ভার শেষ হয়ে যায় না। তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এসব বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি এলেও বিদায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের অতীত কর্মকাণ্ডের আইনি বিচার নিশ্চিত করার দাবি এখন বেশ সোচ্চার।