চলতি বছরের হজ মৌসুমে নানা অনিয়ম, প্রতারণা ও সৌদি সরকারের নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে অর্ধশতাধিক বেসরকারি হজ এজেন্সির (বেসরকারি ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী হাজিদের অভিযোগ এবং সৌদি আরব থেকে আসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে অনুমতিপত্র (লাইসেন্স) বাতিল, স্থগিত, জামানত বাজেয়াপ্ত কিংবা জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের হজে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন পবিত্র হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে বড় একটি অংশ অর্থাৎ ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন গিয়েছেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। এ কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত ছিল ৭৫৮টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রতি বছরের মতো এবারও কিছু এজেন্সির দায়িত্বহীনতা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে অনেক হজযাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অনেকের ক্ষেত্রে লাগেজ হারিয়ে ফেলা, নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং প্রতিশ্রুত সেবা না দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অধিশাখার যুগ্ম সচিব মো. মঞ্জুরুল হক জানান, হজের সময় বিভিন্ন অনিয়ম করায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের হজ কার্যক্রমের জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করতে আগামী এক মাসের মধ্যে এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৭টি প্রতিষ্ঠানের গুরুতর প্রতারণার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হজযাত্রীদের শেষ মুহূর্তে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে পাঠাতে হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে জরিমানা হিসেবে প্রয়োজনীয় অর্থ আদায় করা হয়েছে।
তদন্তাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মীর আমেনা ট্রাভেলস, নর্দার্ন ট্যুরস, রিলেশন ট্রাভেলস ও আনসারি ওভারসিজসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমতিপত্র বাতিল থাকার পরও অর্থ গ্রহণ, নিবন্ধন বাতিল এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সৌদি সরকারের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বা ‘নুসুক’ (Nusuk) ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কোরবানি করার ভুয়া রসিদ দেখানোর দায়ে অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাড়িভাড়া, ভিসা ও পরিবহনে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানোয় খোয়াই এয়ার ট্রাভেলসের ২০২৭ ও ২০২৮ সালের হজ কার্যক্রম ইতিমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আগামী বছর থেকে হজ নিবন্ধন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধনের সময়ই হাজিরা কোন পদ্ধতিতে (তামাত্তু, কিরান নাকি ইফরাদ) হজ পালন করবেন তা অনলাইন পদ্ধতিতে উল্লেখ করতে হবে। এতে কতজন হাজির কোরবানি প্রয়োজন তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া গত তিন বছর ধরে ন্যূনতম ৪০ জন হজযাত্রী পাঠাতে ব্যর্থ হওয়া এবং এবারের হজে কোনো হজযাত্রী নিবন্ধন করতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী বছরের হজ কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হবে।