গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার এবং দেশের প্রভাবশালী ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে ও বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে। সরকারের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ (বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট)-এর প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত বিএফআইইউয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে থাকা ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এছাড়া বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশের মাটিতে জব্দ বা ক্রোক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সুনির্দিষ্টভাবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, তার পৃথক হিসাব প্রকাশ করতে তিনি রাজি হননি।
বিএফআইইউ প্রধান জানান, বিগত সরকারের সময় অবৈধ উপায়ে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নিয়ে পাচার হওয়া সম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছরের শুরুর আগে বা চলতি বছরের শেষ নাগাদ অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে দেশবাসীকে একটি ইতিবাচক সুখবর দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তার আত্মীয়-স্বজন এবং তাদের মদদপুষ্ট বড় ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, কর ফাঁকি, জালিয়াতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়।
বর্তমানে পুলিশের সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ), এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) এবং দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) এসব গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করছে। আর বিভিন্ন সংস্থার এই তদন্ত কাজের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বিএফআইইউ।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের পরই কেন এই ধরনের সম্পদ ক্রোক ও তদন্তের হিড়িক পড়ে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
জবাবে বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, তাদের কাজ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির পরিচয় দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো সদস্যও যদি কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনে জড়িত হন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।