Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৮০ দিনের বিশেষ পরিকল্পনা

Roksana
29 August 2026, 01:58 AM পড়তে ১ মিনিট
দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৮০ দিনের বিশেষ পরিকল্পনা

জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং লোডশেডিংয়ের সমস্যা চিরতরে দূর করতে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।


বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে মন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত, তবে মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কারিগরি ও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা এখনও রয়ে গেছে।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গ্রীষ্মকালীন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দেওয়ার সময় কখনো কখনো প্রাথমিক জ্বালানির (যেমন—গ্যাস বা কয়লা) স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণেও অনেক সময় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সব এলাকায় সমানভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির ফলে সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, একে সামগ্রিক বিদ্যুৎ ঘাটতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এগুলো সাময়িক কারিগরি বিঘ্ন।

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যমান ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো দ্রুত সংস্কার করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা।

মন্ত্রী আরও জানান, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, বরং সেই বিদ্যুৎ মানুষের ঘরে পৌঁছানোর জন্য সঞ্চালন (এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া) ও বিতরণ (গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা) অবকাঠামোর আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের এই সুপরিকল্পিত উদ্যোগগুলোর ফলে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন যেমন গতিশীল হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস অনুসন্ধানেও জোর দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে একটি বিশাল অর্জন, তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয় না, বরং সেই বিদ্যুৎ কোনো রকম বিভ্রাট ছাড়া গ্রাহকের ঘরে পৌঁছানোই আসল চ্যালেঞ্জ। ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন যদি সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হয়, তবেই সাধারণ মানুষ লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী উন্নতির জন্য উৎপাদনের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিতরণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৮০ দিনের বিশেষ পরিকল্পনা

R
Roksana | 02 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার