Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

দেশে জ্বালানি সংকট নেই শামা ওবায়েদ

Roksana
29 August 2026, 01:57 AM পড়তে ১ মিনিট
দেশে জ্বালানি সংকট নেই শামা ওবায়েদ

বৈশ্বিক অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সমন্বিত তৎপরতা শুরু হয়েছে।


সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মীর আহমেদ বিন কাশেমের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম সংসদকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনায় জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে যেন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেজন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট নেই এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।"

সরকার কেবল প্রথাগত উৎসের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি আমদানির পথগুলো বহুমুখীকরণের (একই উৎসের ওপর নির্ভর না করে ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করা) দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বাইরেও অন্যান্য বিকল্প সরবরাহ মাধ্যম ও দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা।

জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে কর্মরত প্রবাসীদের জানমাল রক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওইসব অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলো (বিদেশে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী দপ্তর) সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে জানান, দুর্ভাগ্যবশত কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তবে বিপদে পড়া অনেককেই উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সরকারি বিশেষ উদ্যোগে এবং সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ বিমানে (চার্টার্ড ফ্লাইট) ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে থাকা অন্যান্য নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানেও কূটনৈতিক তৎপরতা ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর সরকার তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশে প্রবাসীদের সুরক্ষা দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেখানেই বাংলাদেশিরা ঝুঁকির মুখে পড়বেন, সেখানেই সরকার তার সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রাখা হয়েছে।

পরিশেষে তিনি বলেন, সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং আগাম প্রস্তুতির কারণেই অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ জ্বালানি ও প্রবাসী কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জনস্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।


জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা—এই দুই স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির ভিত্তি। বৈশ্বিক সংঘাতের এই অস্থির সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকট না থাকার ঘোষণাটি জনমনে স্বস্তি জোগাবে। 

তবে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি ও শ্রমবাজারের যে নির্ভরতা, তা কাটিয়ে উঠতে উৎস বহুমুখীকরণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সরকারের দায়বদ্ধতা যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি বিকল্প জ্বালানি অনুসন্ধান দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই কূটনৈতিক তৎপরতা কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

দেশে জ্বালানি সংকট নেই শামা ওবায়েদ

R
Roksana | 30 March 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার