Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

সকাল ৯টা থেকে ৪০ মিনিট নিজ কক্ষে থাকা বাধ্যতামূলক

Roksana
29 August 2026, 01:58 AM পড়তে ১ মিনিট
সকাল ৯টা থেকে ৪০ মিনিট নিজ কক্ষে থাকা বাধ্যতামূলক

সরকারি দাপ্তরিক কাজে গতিশীলতা আনা এবং সাধারণ নাগরিকদের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নতুন এক কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কার্যালয়ে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি অর্থ ও সম্পদ সাশ্রয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী হওয়ারও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি দপ্তরে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত কর্মকর্তাদের দেখা পান এবং প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই এই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব মোসা. তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এই নোটিশে (দাপ্তরিক আদেশ) জানানো হয়েছে যে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনাগুলো মাঠ পর্যায়ে যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না বলেই এই পুনরায় কড়াকড়ি আরোপ করা হলো।

নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৯টা বাজার সাথে সাথেই সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিজ নিজ নির্ধারিত আসনে বসে দাপ্তরিক কাজ শুরু করতে হবে। এই ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রকার সভা বা অন্য কোনো কর্মসূচি রাখা যাবে না। অর্থাৎ, দিনের প্রথম ৪০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে কেবল দপ্তরে আসা সেবাগ্রহীতাদের সেবা প্রদান এবং জরুরি ফাইল নিষ্পত্তির জন্য। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাঝেমধ্যেই দেখা যায় সেবাগ্রহীতারা সকালে এসে কর্মকর্তাদের কক্ষে পান না, যার ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই অব্যবস্থাপনা অনেকাংশেই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেবল সময়ানুবর্তিতা নয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশনায়। সরকারি কার্যালয়গুলোতে দিনের বেলা পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি (লাইট) ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানালার পর্দা সরিয়ে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, কোনোভাবেই এই যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না। অপ্রয়োজনীয় স্থানে যেমন— সিঁড়ি, করিডোর বা বিশ্রামাগারে বাতি জ্বালিয়ে রাখা সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে।

দাপ্তরিক এই আদেশে আরও বলা হয়েছে যে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কক্ষ ত্যাগ করার সময় অবশ্যই বাতি, পাখা (ফ্যান) এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নিজ দায়িত্বে বন্ধ করবেন। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর গণনাকারী যন্ত্র (কম্পিউটার), মুদ্রণ যন্ত্র (প্রিন্টার) ও প্রতিচ্ছবি গ্রহণকারী যন্ত্র (স্ক্যানার) সহ সকল প্রকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুরোপুরি বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি বিশেষ উৎসব বা নির্দেশনা ছাড়া কার্যালয়গুলোতে কোনো প্রকার চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা না করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক এই নির্দেশনাগুলো কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রতিটি দপ্তর ও সংস্থায় একটি করে নিজস্ব 'তদারকি দল' (ভিজিল্যান্স টিম) গঠন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই দলগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে যে, কর্মকর্তারা সময়মতো দপ্তরে উপস্থিত হচ্ছেন কি না এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নিয়মগুলো মানা হচ্ছে কি না। এ ছাড়া কার্যালয়ের ভেতরকার পরিবেশ, শৌচাগার এবং সিঁড়ির হাতলসহ সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ থেকে যারা জেলা বা উপজেলা সদরের দপ্তরে আসেন, তাদের জন্য এটি বড় স্বস্তি হয়ে দেখা দিতে পারে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ সফল হলে সরকারি কাজে কেবল গতিই ফিরবে না, বরং অপচয় রোধের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত এই ৯টা ৪০ মিনিটের নিয়মটি কেবল একটি সময়সীমা নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক। বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়মতো সেবাপ্রাপ্তি। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে যদি কর্মকর্তাদের মধ্যে সময়ের প্রতি শ্রদ্ধা জন্মায়, তবেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। তবে কেবল তদারকি দল গঠন করলেই হবে না, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। একই সাথে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই মানসিকতা যদি প্রতিটি সরকারি দপ্তরে অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তা দেশের জ্বালানি খাতের ওপর চাপ অনেকাংশেই কমাতে সাহায্য করবে। আমরা কি তবে এক নতুন জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি? সেই উত্তর দেবে সামনের দিনগুলো।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

সকাল ৯টা থেকে ৪০ মিনিট নিজ কক্ষে থাকা বাধ্যতামূলক

R
Roksana | 02 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার