ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়, জানাজা ও দাফন কাজের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন পবিত্র নগরীতে চার দিনব্যাপী বিশেষ শোক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিদায় অনুষ্ঠান তদারকি কমিটির মুখপাত্র ইমান আত্তারজাদেহ এই কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তদারকি কমিটির মুখপাত্র জানান, প্রয়াত নেতার শেষ বিদায়ের এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শহীদ নেতাকে বিদায়’ শিরোনামে পরিচালিত হবে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ জুলাই রাজধানী তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার প্রথম শোকযাত্রা বা শোভাযাত্রা শুরু হবে। এরপর ৭ জুলাই ইরানের অন্যতম পবিত্র নগরী কোমে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ ও শোক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। ৮ জুলাই প্রয়াত নেতার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে দেশটির অপর পবিত্র শহর মাশহাদে।
সবশেষে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের মরদেহ নিয়ে একটি বিশাল শোক মিছিলের আয়োজন করা হবে। শোকযাত্রা শেষে মাশহাদের ঐতিহাসিক ও পবিত্র ইমাম রেজার মাজার শরিফে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর মরদেহ দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানে নিজ দপ্তরে অবস্থানকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক আকস্মিক যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। খামেনির মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাঁরই পুত্র মোজতবা খামেনির নাম নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দেশটির নীতিনির্ধারণী পরিষদ।
ইরানের বিদায় অনুষ্ঠান তদারকি কমিটির মুখপাত্র ইমান আত্তারজাদেহ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রয়াত নেতাকে বিদায় জানানোর এই ঐতিহাসিক আয়োজনের মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’। তিনি আরও জানান, হামলার পর শহীদ নেতার বাম হাতটি মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। ইরানিদের কাছে এটি অটল মনোভাব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াইয়ের এক চিরন্তন প্রতীক। সেই বৈপ্লবিক ঐতিহ্য বজায় রেখে এবং প্রয়াত নেতার অদম্য সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বা অফিশিয়াল (দাপ্তরিক) প্রতীক হিসেবে সেই ‘মুষ্টিবদ্ধ হাত’ বেছে নেওয়া হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করছে তেহরান প্রশাসন। সে লক্ষ্যে রাজধানী তেহরান, কোম এবং মাশহাদ জুড়ে ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে