ইরানকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করলে চীনকে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে বেইজিং ও তেহরানের এই সম্ভাব্য সামরিক আঁতাত নিয়ে ওয়াশিংটন এখন চরম ক্ষুব্ধ।
বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে চীন ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে অত্যন্ত উন্নত মানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আকাশ থেকে আসা আক্রমণ প্রতিহত করার যন্ত্র) সরবরাহ করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
ফ্লোরিডা সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রাক্কালে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, চীন যদি তেহরানকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করার পথে হাঁটে, তবে তাদের এর জন্য "বড় ধরনের সমস্যায়" পড়তে হবে। ট্রাম্পের এই সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ বার্তা বেইজিংয়ের প্রতি এক সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে, ইরান সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তি নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেসব জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত ও আধুনিকায়ন করতে তারা চীনের ওপর নির্ভর করছে। তেহরান চাইছে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করতে, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলা করা সহজ হয়।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুঙ্কার এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এলো যখন আগামী মাসের শুরুতেই তার চীন সফরের কথা রয়েছে। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক (দুই দেশের মধ্যে) বৈঠক হওয়ার কথা। কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, এই অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি দুই পরাশক্তির মধ্যকার সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর কালো মেঘের ছায়া ফেলতে পারে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই চায় না যে ইরান এই মুহূর্তে নতুন করে সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠুক। কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্ত্র ব্যবসা ও কৌশলগত মিত্রতা সবসময়ই জটিল সমীকরণ তৈরি করে। চীনের জন্য একদিকে ইরানের সাথে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রক্ষা করা জরুরি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সংঘাত এড়ানোও এক বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি বেইজিংকে নতুন করে ভাবাবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন। যদি সত্যিই চীন পিছিয়ে না আসে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।