মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কামানের গর্জন থামানো এবং বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ওয়াশিংটনকে বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে তার উচ্চপদস্থ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে এই প্রস্তাবটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা এখন ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন। সোমবার সকালে হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি স্থিতিশীল সমাধানের পথ খুঁজতেই এই তৎপরতা শুরু হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্যতা এবং হরমুজ প্রণালি (পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখের একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ) খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। নিরাপত্তা দলের বৈঠকটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।"
তেহরানের পাঠানো এই প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান চায়, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এই মুহূর্তে বন্ধ রেখে সেগুলোকে ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখা হোক। অর্থাৎ, পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো সুরাহা ছাড়াই তারা বর্তমান সংঘাতের ইতি টানতে আগ্রহী।
তবে এই শর্ত মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। মুখপাত্র লেভিট আবারও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইরানের প্রশ্নে প্রেসিডেন্টের 'চূড়ান্ত সীমা' বা অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং অটল।
এখন বিশ্ববাসীর নজর হোয়াইট হাউজের সিদ্ধান্তের দিকে। ইরানের শর্ত মেনে নিয়ে ট্রাম্প কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে হাঁটবেন, নাকি পারমাণবিক প্রশ্নে অনড় থেকে সংঘাতের দীর্ঘসূত্রিতা বেছে নেবেন—তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
ইরানের এই প্রস্তাবটি কি আসলেই শান্তির পথে একটি আন্তরিক পদক্ষেপ, নাকি পারমাণবিক কর্মসূচিকে আড়ালে রেখে সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল মাত্র? ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। একদিকে বিশ্ব তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় হরমুজ প্রণালি সচল করা জরুরি, অন্যদিকে পারমাণবিক ঝুঁকি মাথায় নিয়ে শান্তিচুক্তি সই করাও ঝুঁকিপূর্ণ। এই সংকটের সমাধান কেবল যুদ্ধের অবসান নয়, বরং আগামী দিনের বিশ্ব নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।