Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মতভেদ: যুদ্ধের বদলে কূটনীতির পথে ওয়াশিংটন

Roksana
29 August 2026, 02:09 AM পড়তে ১ মিনিট
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মতভেদ: যুদ্ধের বদলে কূটনীতির পথে ওয়াশিংটন

ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট মতপার্থক্য। সামরিক অভিযানের চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনার দিকে ট্রাম্প বেশি ঝুঁকছেন দেখে নেতানিয়াহু প্রকাশ করেছেন তীব্র হতাশা।

 সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন এই দুই দেশের সামরিক সংঘাত নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের ফারাক দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সর্বশেষ এক ঘণ্টা স্থায়ী ফোনালাপকে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাম্প যেখানে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য শেষবারের মতো কূটনীতির সুযোগ দিতে চাইছেন, সেখানে নেতানিয়াহু চাইছেন সামরিক শক্তির কঠোর প্রয়োগ।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার, যখন ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, অতি দ্রুত ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ মহলে এই অভিযানের সম্ভাব্য নাম হিসেবে 'অপারেশন স্লেজহ্যামার' শব্দটিও আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু এই পরিকল্পনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয়ভাবে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর অনুরোধে তিনি হামলা স্থগিত করেছেন।

নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে দেরি করা মানেই তেহরানকে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তিনি ওয়াশিংটনকে বারবার তাগিদ দিচ্ছেন যেন তারা আপসের পথে না হেঁটে আগ্রাসী সামরিক কৌশল বজায় রাখে। অথচ ট্রাম্পের কৌশল ভিন্ন। তিনি মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান পাওয়া সম্ভব, তবে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তি পাবো, নয়তো আমাদের কঠিন পথ বেছে নিতে হবে।’

এদিকে, কূটনৈতিক পর্দার আড়ালে পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা বিনিময় চলছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই পক্ষই ১৪ দফার একটি প্রস্তাবনার ভিত্তিতে মতামত আদান-প্রদান করছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো জটিল বিষয়গুলো এখন আলোচনার টেবিলে।

ট্রাম্প অবশ্য তার অবস্থানে অনড়। তিনি একদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখছেন, অন্যদিকে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আলোচনার ফলাফল যদি তার মনোপুত না হয়, তবে আক্রমণের জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত। নেতানিয়াহুর প্রবল চাপের মুখেও ট্রাম্প নিজস্ব সিদ্ধান্তে অটল থেকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রক তিনিই।

 ইরান ও ইসরায়েলের এই টানাপড়েন মূলত একটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটেরই অংশ। নেতানিয়াহুর যুদ্ধের জেদ বনাম ট্রাম্পের কৌশলগত কূটনীতি—এই দুইয়ের দোলাচলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সামরিক আগ্রাসন দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আনতে পারে না, বরং ধ্বংস ও অস্থিরতাই ডেকে আনে। তবে কূটনীতির পথটিও অত্যন্ত পিচ্ছিল, বিশেষ করে যখন দুই পক্ষই একে অপরের ওপর অবিশ্বাস ও সংঘাতের অভিযোগ তোলে। সংকট নিরসনে শান্তি আলোচনার বিকল্প নেই, কিন্তু সেই আলোচনার ভিত্তি হতে হবে ন্যায়সঙ্গত। পৃথিবী যখন শান্তির পথে এগোতে চায়, তখন যুদ্ধের দামামা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মতভেদ: যুদ্ধের বদলে কূটনীতির পথে ওয়াশিংটন

R
Roksana | 21 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার