মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হলো। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম বা কেন্দ্রীয় কমান্ড) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের এই ধারাবাহিক সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ইরানের ওপর সর্বশেষ এই বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হয়। এই অভিযানে মূলত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক রসদ সরবরাহের অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। সেন্টকমের তথ্যমতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অত্যন্ত সতর্ক ও যুদ্ধপ্রস্তুত অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, টানা ষষ্ঠ রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং পাঁচটি সংযোগ সেতুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমান। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রদেশের বান্দার খামির এলাকার কাছাকাছি দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে পৃথক মার্কিন হামলায় সাতজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে অন্তত চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকাতেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার কারণে বান্দার আব্বাস-শিরাজ সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বান্দার আব্বাসের পশ্চিমে তিনটি এবং বুশেহর শহরে দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, বান্দার আব্বাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার (যোগাযোগ মিনার) লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের অভ্যন্তরীণ রসদ সরবরাহ এবং সামরিক চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্তত পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গারিভেহ ও কাহুরেস্তান সেতু অন্যতম। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।