ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। দেশটির দক্ষিণ উপকূলজুড়ে চালানো এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ দফার এই বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, হরমুজ প্রণালির অতি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত দ্বীপ কেশম, বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস এবং প্রণালির ওপর নজরদারি রাখার জন্য পরিচিত শহর সিরিকে একাদিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। এছাড়া ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের চাবাহার, কোনারাক এবং রাস্ক শহরেও মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো উপর্যুপরি বোমা বর্ষণ করেছে।
পশ্চিমাঞ্চলের শহর আহভাজেও বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মার্কিন হামলায় একটি সাধারণ হাসপাতাল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্রও রয়েছে। হামলার পরপরই আতঙ্কিত পরিস্থিতিতে হাসপাতালটি খালি করে দেওয়া হয়। এই হামলার তীব্রতার কারণে বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন বিমান হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক সংকটে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম—মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিয়োজিত মার্কিন সামরিক শাখা) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সর্বশেষ সামরিক অভিযান সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের কমান্ড সেন্টার (সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র), আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইউনিট এবং উপকূলীয় নজরদারি চৌকিগুলোকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়াই ছিল এই নিখুঁত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
হরমুজ প্রণালিতে আধিপত্য বিস্তার ও দুই দেশের পারস্পরিক বৈরী অবস্থানের কারণে এই সংঘাত নতুন মাত্রা ধারণ করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।