Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ঈদের আনন্দ ম্লান করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত: ইরানে মার্কিন বিমান হামলা, তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি

Roksana
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
ঈদের আনন্দ ম্লান করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত: ইরানে মার্কিন বিমান হামলা, তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি

পবিত্র ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী, সেই সঙ্গে ভূপাতিত করেছে একাধিক ইরানি চালকবিহীন বিমান। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে পরাশক্তিগুলোর এই পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


উৎসবের দিনে যখন মুসলিম বিশ্ব পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত গোটা বিশ্বকে চরম আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (যাকে সংক্ষেপে সেন্টকম বলা হয়) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ইরানের কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে (বিশ্বের জ্বালানি তেল চলাচলের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল সাগরপথ) যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করার অভিযোগে ইরানের অন্তত চারটি চালকবিহীন বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সামরিক দপ্তরের দাবি অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসের একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই সর্বশেষ হামলাটি চালানো হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে, ওই কেন্দ্রটি থেকে পঞ্চম আরেকটি চালকবিহীন বিমান উড্ডয়নের প্রস্তুতি চলছিল, যা মার্কিন বাহিনীর জন্য সরাসরি বিপদের কারণ হতে পারত।

অন্যদিকে, এই আকস্মিক হামলার বিষয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, বন্দর আব্বাস শহরের পূর্বাঞ্চলে বিকট শব্দে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ তাদের নিজস্ব সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, এই সংঘাতের শুরু মূলত একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজের বেআইনি প্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিশাল তেলবাহী জাহাজটি নিজেদের দিকনির্ণয়ক যন্ত্র (যাকে আধুনিক পরিভাষায় রাডার বলা হয়) পুরোপুরি বন্ধ রেখে গোপনে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ‘ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’র নৌ-সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই জাহাজটি লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়েন।

তাসনিম সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, ইরানের এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপের জবাবেই মার্কিন সামরিক বাহিনী বন্দর আব্বাসের একটি পরিত্যক্ত ও জনশূন্য এলাকায় পাল্টা বিমান হামলা চালায়। ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ সাধারণ মানুষ শুনতে পেয়েছে, তা মূলত মার্কিন বাহিনীর এই লক্ষ্যহীন হামলার কারণেই হয়েছে। জনশূন্য এলাকায় হামলা হওয়ায় এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় কোনো অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে তেহরান।

এই সামরিক সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে চলা এই অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থা অবসানের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন নানা রকম আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল, ঠিক তখনই এই বিমান হামলার ঘটনা সেই শান্তিপ্রক্রিয়াকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দুই দেশের স্নায়ুযুদ্ধ ও প্রত্যক্ষ সংঘাতের কারণে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আবারও খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।

এদিকে, পরিস্থিতির গভীরতা বিবেচনা করে বুধবার নিজ কার্যালয়ে এক বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে তিনি ইরানকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে তাদের ওপর আরও বড় ধরনের ও ধ্বংসাত্মক বোমাবর্ষণ শুরু করা হতে পারে। একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইসরায়েলের অবস্থান শক্ত করতে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ‘আব্রাহাম চুক্তি’ (ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সমঝোতা) নামের একটি বিশেষ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জোর আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান হামলা ও হুমকির পর বসে নেই ইরানও। মার্কিন এই সামরিক অভিযানকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম ও নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক বা বৈরী আচরণের অত্যন্ত দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, ইরানের দাবি—ইতিমধ্যেই তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার অপরাধে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন বিমান ভূপাতিত করেছে এবং একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে পাল্টা গুলিও চালিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট ভাষায় বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিজস্ব ভূখণ্ড ও আকাশসীমা রক্ষায় পাল্টা আঘাত হানার ‘বৈধ, আইনগত ও সুনির্দিষ্ট’ অধিকার তাদের রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তারা এই অধিকার প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না।


মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কেবল ওই অঞ্চলের জন্যই নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত। বিশেষ করে যখন বিশ্বনেতারা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার চেষ্টা করছেন, তখন এমন আকস্মিক হামলা ও পাল্টা হুমকি সেই প্রচেষ্টাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। সামরিক শক্তি প্রয়োগের এই সর্বনাশা মহড়া বন্ধ করে উভয় পক্ষেরই উচিত দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটা। অন্যথায় এই সংঘাত যদি বড় আকার ধারণ করে, তবে বিশ্বকে এর জন্য চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য চোকাতে হতে পারে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

ঈদের আনন্দ ম্লান করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত: ইরানে মার্কিন বিমান হামলা, তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি

R
Roksana | 28 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার