ইউক্রেনের রাজধানী কিইভের অদূরে আয়োজিত একটি ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দিনের আলোয় প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও সামরিক প্রযুক্তিবিদদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া হামলায় আরও অন্তত ১০০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মারাত্মক নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও উন্মুক্ত স্থানে এমন ড্রোন প্রদর্শনীর আয়োজন ও ব্যাপক প্রচার চালানো নিয়ে ইউক্রেনজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়। কার অনুমোদনে এবং কেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল, তা তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, হামলা চালাতে রুশ বাহিনী তিনটি মারাত্মক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যার মধ্যে কেবল একটি আকাশেই ধ্বংস করতে পেরেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
একই দিনে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলেও একযোগে হামলা চালিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। পূর্ব ইউক্রেনের স্লোভিয়ানস্ক শহরে রাশিয়ার ফেলা শক্তিশালী গ্লাইড বোমায় অন্তত পাঁচজন এবং উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে আরও দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে সামরিক বিভাগ। ফলে একদিনে ইউক্রেনজুড়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। এর মধ্যেই এক জরুরি সতর্কবার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া পুরো ইউক্রেনজুড়ে আরও একটি বড় ধরনের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।
এদিকে কিইভে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়ার অভ্যন্তরে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে কিরভ শহরের একটি সামরিক কারখানায় পাল্টাধাওয়া হিসেবে সফল ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। রুশ যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ওই কারখানায় ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে ছয়জন নিহত ও ২৬ জন আহত হন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট এই হামলাকে একটি ‘কৌশলগত সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি রুশ বাহিনীর সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা পঙ্গু করতে সেন্ট পিটার্সবার্গ এলাকায় রাশিয়ার সর্ববৃহৎ অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর সামরিক কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু গুদামঘরেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে সীমান্ত পেরিয়ে সংঘাতের উত্তাপ ছড়াচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। রোমানিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একটি রুশ ড্রোনকে আকাশে ভূপাতিত করার কথা নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোশর দান। তিনি জানান, রোমানীয় বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমান থেকে গুলি ছুড়ে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি সামাল দিতে ও নতুন করে শান্তি আলোচনার তাগিদে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। সফরকালে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।