Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা: দুই শিশুসহ প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা মা

BNJK
29 August 2026, 02:03 AM পড়তে ১ মিনিট
গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা: দুই শিশুসহ প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা মা

 যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফিলিস্তিনের গাজায় আবারও রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বেইত লাহিয়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বর্বরোচিত বিমান হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার দুই নিষ্পাপ শিশু নিহত হয়েছে, যা বিশ্ববিবেককে আবারও নাড়িয়ে দিয়েছে।

 ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নৃসংশতা যেন থামছেই না। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লাহিয়া এলাকায় একটি সাধারণ বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় এক মা ও তার দুই সন্তানের নিথর দেহ। নিহত ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রগুলো।

পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে শোকে স্তব্ধ খালেদ আল-তানানি জানান, তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই ভবনটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এই আশায় যে, বেসামরিক এলাকা হিসেবে এটি হয়তো নিরাপদ থাকবে। কিন্তু ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের লক্ষ্যবস্তু থেকে রেহাই পায়নি তার সাজানো সংসার। খালেদ আক্ষেপ করে বলেন, যখন চারিদিকে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এমন ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হলো। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, গাজার কোনো প্রান্তই এখন আর ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরাপদ নয়।

নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পর গাজার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালের সামনে এক হৃদয়বিদারক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সারিবদ্ধভাবে রাখা ছোট ছোট কফিনগুলো দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখের জল ধরে রাখা দায় হয়ে পড়েছিল। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গাজা মিডিয়া অফিসের (সংবাদ মাধ্যম বিষয়ক দপ্তর) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ২ হাজার ৪০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। যার মধ্যে নির্বিচারে হত্যা, সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার, দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ এবং পরিকল্পিতভাবে অনাহারে রাখার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তথাকথিত এই যুদ্ধবিরতি চলাকালেই ৯৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ২৩৫ জনেরও বেশি মানুষ। ২০০৭ সাল থেকে টানা অবরোধের শিকার গাজা এখন এক ধ্বংসস্তূপের নাম। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে গাজার হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু বা বাস্তুচ্যুত (নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত) অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং নূন্যতম চিকিৎসার অভাবে সেখানে এখন এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দখলদার বাহিনীর এই দীর্ঘ হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৩২৮ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ১৮৪ জন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই হতাহতদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুললেও ইসরায়েলি আগ্রাসন থামানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না।

 গাজায় শান্তির নামে যে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে, তা কি কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ? একজন অন্তঃসত্ত্বা মা ও তার দুই শিশুর মৃত্যু কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি একটি জাতির অস্তিত্ব বিলীন করার প্রচেষ্টার নির্দয় প্রতিফলন। যখন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়, তখন আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিশ্ব সম্প্রদায় কি কেবল শোক প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করবে, নাকি এই রক্তপাত বন্ধে কোনো কঠিন পদক্ষেপ নেবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা: দুই শিশুসহ প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা মা

B
BNJK | 26 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার