Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

চুক্তিতে অচলাবস্থা: শান্তি প্রস্তাবকে 'আবর্জনা' বলে ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযানের পথে ট্রাম্প

Roksana
29 August 2026, 02:12 AM পড়তে ১ মিনিট
চুক্তিতে অচলাবস্থা: শান্তি প্রস্তাবকে 'আবর্জনা' বলে ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযানের পথে ট্রাম্প

যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবকে 'আবর্জনা' আখ্যা দিয়ে তিনি নতুন সামরিক অভিযান অথবা হরমুজ প্রণালিতে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' পুনরায় শুরুর কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবকে চরম অপমানজনক ভাষায় 'বোকামি' ও 'আবর্জনা' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। কূটনীতির পথ ক্রমশ সংকুচিত হওয়ায় এখন মূলত দুটি কঠোর বিকল্প নিয়ে ভাবছে মার্কিন প্রশাসন—হয় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ গুঁড়িয়ে দিয়ে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' (অবরোধ ভাঙার বিশেষ সামরিক পদক্ষেপ) পুনরায় চালু করা, নতুবা সরাসরি নতুন কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা।

দেশের ভেতরে রাজনৈতিক চাপে থাকার কথা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প নিজেই এই কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, "তেহরান আমাদের কাছে যে আবর্জনা পাঠিয়েছে, তা পড়ার পর এই মুহূর্তে আমি একে সবচেয়ে দুর্বল প্রস্তাব বলতে পারি। সত্যি বলতে, আমি পুরোটা পড়তেও পারিনি।"

যুদ্ধবিরতির বর্তমান অবস্থা বোঝাতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানের উদাহরণ টেনে বলেন, "আমি এতটুকু বলতে পারি যে, এই যুদ্ধবিরতি এখন বড় ধরনের লাইফ সাপোর্টে (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্র) রয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, চিকিৎসক এসে বলছেন, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বড়জোর এক শতাংশ।"

কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার পর শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির বিরুদ্ধে ফের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার জল্পনা তীব্র হয়েছে। একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সোমবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন রেটক্লিফসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এর আগে ইরানের যেসব সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করেছিল, তার মধ্যে যেগুলোতে এখনও হামলা হয়নি, ওয়াশিংটন এখন সেগুলোর অন্তত ২৫ শতাংশে নতুন করে আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে আরেক প্রভাব বিস্তারকারী দেশ ইসরায়েলও চাইছে এই সুযোগ কাজে লাগাতে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার চাইছে, ট্রাম্প যেন সরাসরি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের (পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রধান উপাদান) মজুত ধ্বংস বা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দেন। যদিও খোদ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করেন, এ ধরনের অভিযান এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এমন সর্বনাশা পথে না-ও হাঁটতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে। মার্কিন প্রশাসন বেশ আশাবাদী ছিল যে, তেহরান তাদের শর্তগুলো মেনে নেবে এবং ইতিবাচক সাড়া দেবে। এই আশায় ট্রাম্প এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তেহরানের জবাবের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মার্কিন প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ঘোষণা দেয়, এসব শর্ত মানার অর্থ হলো ট্রাম্পের চরম বাড়াবাড়ির কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করা।

ইরানের এমন অনড় অবস্থানের পর ট্রাম্পও চরম বিরক্তি প্রকাশ করে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, "আমার এটি মোটেও পছন্দ হয়নি, তাদের এই জবাব কোনোভাবেই যথোপযুক্ত নয়।" এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু রোববারের পর মার্কিন প্রশাসন বুঝতে পেরেছে, ইরানিরা দৃশ্যত তাদের সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। কারণ, তেহরানের সর্বশেষ চিঠিতে এ বিষয়ে টুঁ শব্দটিও নেই।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একাধিক সামরিক বিকল্প নিয়ে ভাবলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতির শেষ তাসটি খেলতে চান। চলতি সপ্তাহে তার এশিয়া সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে, যার মূল গন্তব্য চীন। বুধবার রওনা হয়ে শুক্রবার দেশে ফেরার আগে সম্ভবত তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিং সফরে তিনি চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ইরান ইস্যু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করবেন। তেহরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে চীন যেন ইরানের ওপর পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখতে চাপ সৃষ্টি করে, সেটাই এখন ট্রাম্পের বড় লক্ষ্য।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সাপে-নেউলে সম্পর্ক এবং চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে। কূটনীতির ভাষা যখন ব্যর্থ হয় এবং পরাশক্তিগুলো যখন সামরিক শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন তার চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হয় সাধারণ মানুষকে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে বা ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে হামলা চালায়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন চীন সফরে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের কোনো নতুন পথ খুঁজে পান, নাকি বিশ্বকে আরেকটি ধ্বংসাত্মক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেন। পাঠকেরও ভেবে দেখা উচিত, অস্ত্রের ঝনঝনানি আর আগ্রাসন কি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে কোনো স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে?

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

চুক্তিতে অচলাবস্থা: শান্তি প্রস্তাবকে 'আবর্জনা' বলে ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযানের পথে ট্রাম্প

R
Roksana | 12 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার