জাপানের উত্তর উপকূলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ২। তবে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পরও দেশটিতে কোনো সুনামির (সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বিশাল ঢেউ) আশঙ্কা বা সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাপানের হনশু দ্বীপের উত্তরাঞ্চলীয় তোহোকু অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রশাসনিক জেলা বা প্রিফেকচার ইওয়াতের পূর্ব উপকূলে এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। প্রাথমিক তথ্যে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ৬ দশমিক ৯ বলা হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ২ হিসেবে নির্ধারণ করে জাপানি আবহাওয়া দপ্তর। এই ভূকম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ৬ দশমিক ৯ বলে উল্লেখ করেছে।
জাপানি কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা বেশ ভালো অনুভূত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ওই অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা সংলগ্ন কোনো স্থাপনাতেও কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা ত্রুটি ধরা পড়েনি। সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর সার্বিক পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করতে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে একটি জরুরি সাড়াদান দল গঠন করা হয়েছে। যেকোনো আপদকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করতে ত্রাণ দলগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কিছু ট্রেনের গতিপথ ও সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শক্তিশালী এই কম্পনের ঠিক পরপরই তোহোকু শিনকানসেন উচ্চগতির বুলেট ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি সাধারণ ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এছাড়াও হনশুর সর্বউত্তরের জেলা আওমোরির এক্সপ্রেসওয়ে (দ্রুতগামী মহাসড়ক) সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সড়কগুলোতে কোনো ফাটল বা ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন প্রকৌশলী ও পরিদর্শকরা।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'অগ্নিবলয়' বা রিং অব ফায়ারের ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়শই ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশ্বে প্রতি বছর রিখটার স্কেলে ৬ বা তার বেশি মাত্রার যতগুলো শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়, তার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই জাপানে আঘাত হানে।
এর আগে, ২০১১ সালের মার্চ মাসে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৯ দশমিক ০ মাত্রার একটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সে সময় সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামির তোড়ে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা এবং প্রাণ হারান হাজার হাজার মানুষ। ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে চোরনোবিলের পর বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক পারমাণবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল জাপান। তবে সৌভাগ্যবশত এবারের কম্পনটি ততটা মারাত্মক রূপ নেয়নি এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।