Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

জব্ধ অর্থ ফেরত নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতমুখী অবস্থান

BNJK
29 August 2026, 02:04 AM পড়তে ১ মিনিট
জব্ধ অর্থ ফেরত নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতমুখী অবস্থান

 ইসলামাবাদে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলার বা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের জব্ধ অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে রশি টানাটানি শুরু হয়েছে। তেহরান অর্থ ছাড়ের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সম্মতির দাবি জানালেও মার্কিন প্রশাসন সরাসরি তা অস্বীকার করেছে, যা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী আস্থার সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এল।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পর্দার অন্তরালে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কাতারের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ। ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত এই জব্ধ সম্পদ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে একে মার্কিন প্রশাসনের ‘আন্তরিকতার লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই হোয়াইট হাউস বা মার্কিন কর্মকর্তারা এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে ইসলামাবাদ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ নিতে সম্মত হয়েছে। তার মতে, এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তাদের ন্যায্য অর্থ ফেরত না দিলে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে।

তবে ওয়াশিংটন এই দাবি নাকচ করে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের তহবিলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ সরানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মূলত দুই দেশের মধ্যকার গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণকেই ফুটিয়ে তুলছে।

অর্থ জব্ধের নেপথ্য কারণ ও দীর্ঘ জটিলতা এই ৬০০ কোটি ডলারের উৎস মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির লভ্যাংশ। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। দীর্ঘদিন পর ২০২৩ সালে কাতার এবং ওমানের মধ্যস্থতায় একটি বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় পাঁচজন মার্কিন নাগরিক মুক্তি পান এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচ ইরানিকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে এই অর্থ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। তবে শর্ত ছিল যে, এই অর্থ ইরান কেবল খাদ্য, ওষুধ এবং কৃষিপণ্যের মতো মানবিক প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন পুনরায় এই তহবিল স্থগিত করার নির্দেশ দেয়। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এই অর্থের অপব্যবহার করতে পারে।

বর্তমান অচলাবস্থা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় ইরান আবারও তাদের এই ন্যায্য পাওনা আদায়ের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে। ইরানের দাবি, তারা যদি এই অর্থ ব্যবহার করতে না পারে তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশ্নটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাইডেন প্রশাসনের জন্য ইরানের প্রতি নমনীয় হওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরেই ব্যাপক চাপ রয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হয়তো এই দাবি করে ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে অথবা আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তাদের কঠোর অবস্থানের জানান দিচ্ছে। কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, যদিও তারাই এই তহবিলের প্রধান তদারককারী বা জিম্মাদার হিসেবে কাজ করছে।

সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ: আস্থার সংকট ও কূটনীতির ভবিষ্যৎ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বাগযুদ্ধ মূলত আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক চিরাচরিত দৃশ্য। যখনই কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই দুই পক্ষ থেকে বিপরীতধর্মী বক্তব্য আসতে থাকে। ইরানের জন্য এই অর্থ পুনরুদ্ধার করা এখন শুধু অর্থনৈতিক প্রয়োজন নয়, বরং এটি তাদের জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটি একটি দর কষাকষির শক্তিশালী হাতিয়ার। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি প্রয়োজনে এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। যদি সত্যিই কোনো সমঝোতা না হয়, তবে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

জব্ধ অর্থ ফেরত নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতমুখী অবস্থান

B
BNJK | 11 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার