Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: নেতানিয়াহুকে শান্ত থাকার আহ্বান

Roksana
29 August 2026, 02:06 AM পড়তে ১ মিনিট
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: নেতানিয়াহুকে শান্ত থাকার আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক জরুরি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরান ও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং এর জবাবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নতুন কোনো পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।


রোববার রাতে দুই নেতার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তবে কথোপকথনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেল আবিব। অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ফোনালাপকালে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নতুন করে কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা একটি চুক্তির বিষয়ে খুব ভালো কিছু করার কাছাকাছি আছি।”

বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’ এই ফোনালাপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজ এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই নেতার মধ্যকার এই ফোনালাপ অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে অনুষ্ঠিত হলো। বিশেষ করে গত সপ্তাহে অন্য একটি ফোনালাপে ট্রাম্প কর্তৃক নেতানিয়াহুকে অত্যন্ত কঠোর ও অশ্লীল ভাষায় তিরস্কার করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এই ফোনালাপটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েল পাল্টা বিমান হামলা চালানোর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের একচ্ছত্র কর্তৃত্বের কথা জাহির করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ইরান বা ইসরায়েলের নতুন কোনো হামলা চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সে (নেতানিয়াহু) সিদ্ধান্ত নেয় না।” তবে ট্রাম্পের সেই প্রচ্ছন্ন হুশিয়ারি ও আহ্বান উপেক্ষা করেই ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ ও ইস্পাহানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এমনকি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাতেও সফল হামলা চালানোর দাবি করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে লেবানন। রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় একটি প্রধান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (যা দূরপাল্লার লক্ষ্যভেদে সক্ষম ভারী রকেট) নিক্ষেপ করে ইরান। ইরানের এই ত্বরিত হামলার পরপরই ডনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং যেকোনো মূল্যে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।

কূটনৈতিকভাবে ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যেকোনো শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা নির্ভর করবে মূলত লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি (যুদ্ধ বন্ধের আনুষ্ঠানিক চুক্তি) কার্যকর হচ্ছে কি না, তার ওপর। কিন্তু গত মার্চ মাস থেকেই লেবাননে একতরফা হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। যদিও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই যুদ্ধক্ষেত্রে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছিল, কিন্তু ইহুদি রাষ্ট্রটি তা লঙ্ঘন করে লেবাননের ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের খোঁজে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান (স্থলবাহিনী পাঠিয়ে আক্রমণ) শুরু করে।

ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহর যোদ্ধারাও লেবাননের অভ্যন্তরে এবং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে নিয়মিত রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একপ্রকার অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই প্রথম সরাসরি ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলা চালাল, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।


মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই অত্যন্ত নিবিড় হলেও বর্তমান পরিস্থিতি এক নতুন টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরে শান্তি চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অনুরোধের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সামরিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী তারা যদি সত্যিই একটি শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে থাকেন, তবে ইসরায়েলের এই লাগামহীন সামরিক অভিযান সেই সম্ভাবনাকে ভেস্তে দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল মৌখিক হুশিয়ারি নয়, বরং মার্কিন প্রশাসনকে ইসরায়েলের ওপর বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে, অন্যথায় এই অঞ্চলের যুদ্ধ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে যা বিশ্ব অর্থনীতিকেও পঙ্গু করে দিতে পারে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: নেতানিয়াহুকে শান্ত থাকার আহ্বান

R
Roksana | 08 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার