Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠক: বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতির নতুন মেরুকরণ নাকি সমমর্যাদার সন্ধি?

Roksana
29 August 2026, 02:11 AM পড়তে ১ মিনিট
ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠক: বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতির নতুন মেরুকরণ নাকি সমমর্যাদার সন্ধি?

বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রবল প্রতিপক্ষ অবশেষে মুখোমুখি বসেছেন আলোচনার টেবিলে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় শুরু হওয়া এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের করমর্দন কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং আগামীর বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার পথনকশা নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ ও বাণিজ্যিক তিক্ততা সরিয়ে রেখে আলোচনার শুরুতেই চীনের রাষ্ট্রপতিকে উষ্ণ অভিবাদন জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আচরণে একটি সূক্ষ্ম কৌশল লুকিয়ে ছিল। তিনি শুরুতেই চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সমমর্যাদার শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা স্টিমসন সেন্টারের গবেষক কেলি গ্রিয়েকো এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ট্রাম্পের এমন বিনয়ী ও সম্মানজনক বক্তব্য দুই দেশের আলোচনাকে একটি সমতার ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছে। এটি মূলত দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পর এক ধরনের বরফ গলার ইঙ্গিত।

এই বৈঠকের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা। বিশেষ করে মার্কিন কৃষি পণ্য, উড়োজাহাজ এবং অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য যাতে চীন আরও বড় পরিসরে কেনে, সেই বিষয়ে তিনি একটি লাভজনক চুক্তি করতে মরিয়া। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের একটি বড় অংশ হলো দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের কাছে এটি প্রমাণ করা যে, তিনি চীনের কাছ থেকে একটি 'সেরা চুক্তি' (লাভজনক বাণিজ্যিক সমঝোতা) আদায় করতে পেরেছেন। এটি তার অভ্যন্তরীণ জনমত ও আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। গবেষক গ্রিয়েকো উল্লেখ করেছেন যে, গত এক বছরে চীনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপিয়ে দেওয়া উচ্চহারে শুল্ক (আমদানি কর) খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। এই শুল্ক যুদ্ধের ফলে মার্কিন কৃষকরাই উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের দর-কষাকষির ক্ষমতা আগের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। ফলে বেইজিংয়ের সামনে এখন যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই।

অন্যদিকে চীনও নিজেদের হাতের তাসগুলো খুব সতর্কতার সঙ্গে চালছে। বিশেষ করে 'বিরল মৃত্তিকা' বা রেয়ার আর্থ (আধুনিক প্রযুক্তি তৈরির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ পদার্থ) রপ্তানির ক্ষেত্রে বেইজিং তাদের শক্ত অবস্থানের কথা বারবার জানান দিচ্ছে। এই খনিজগুলো বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (ইলেকট্রনিকস) এবং অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর (কম্পিউটার ও মোবাইলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ) উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। চীন যদি এই খনিজ রপ্তানি কমিয়ে দেয়, তবে মার্কিন প্রযুক্তি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

বাণিজ্যের পাশাপাশি ভূ-রাজনীতিও এই বৈঠকের একটি প্রধান অংশ জুড়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প চাইছেন চীন যেন সরাসরি ভূমিকা রাখে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা হলো চীন যেন তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধ বন্ধে সহায়তা করে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চীন যদি ইরান ইস্যুতে কোনো ছাড় দেয় বা সহায়তা করে, তবে তারা বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় কোনো সুবিধা দাবি করবে। এর পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যু এবং দক্ষিণ চীন সাগরের সার্বভৌমত্ব নিয়েও দুই নেতার মধ্যে গভীর ও দীর্ঘ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।


ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এই বৈঠক কেবল দুটি দেশের মিলনমেলা নয়, বরং এটি একটি জটিল দাবা খেলা। যেখানে প্রতিটি চাল অত্যন্ত হিসাব করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের নমনীয় ভঙ্গি যেমন কূটনীতির অংশ, তেমনি চীনের নীরবতাও তাদের শক্তির বহিঃপ্রকাশ। শেষ পর্যন্ত এই বৈঠকের ফল বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফেরাবে নাকি নতুন কোনো শুল্ক যুদ্ধের সূচনা করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে কেউই একে অপরকে ছাড়া চলতে পারবে না।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠক: বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতির নতুন মেরুকরণ নাকি সমমর্যাদার সন্ধি?

R
Roksana | 14 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার