বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে কলঙ্কজনক এক অধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। ডোপিং বা নিষিদ্ধ শক্তিদায়ক ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগে দেশটিকে এখন ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাথলেটিকস ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (এআইইউ)।
গত সোমবার (২০ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় অ্যাথলেটিকস ইন্টেগ্রিটি ইউনিট জানিয়েছে, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়াকে (এএফআই) এখন থেকে ‘এ’ (A) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ভারত ‘বি’ (B) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে নজরদারি কিছুটা শিথিল থাকে। তবে ডোপিংয়ের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় এখন থেকে ভারতীয় অ্যাথলেটদের ওপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত কঠোর অ্যান্টি-ডোপিং (নিষিদ্ধ মাদক বিরোধী) নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এই কুখ্যাত তালিকায় ভারত একা নয়; আগে থেকেই সেখানে রয়েছে রাশিয়া, বেলারুশ, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া এবং ইউক্রেনের মতো দেশগুলো। আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস অঙ্গনে ডোপিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এখন ভারতের অবস্থান ওপরের সারিতে। এআইইউ-এর সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে অ্যাথলেটিকসে ডোপিং আইন লঙ্ঘনের সংখ্যা বিচার করলে ভারত শীর্ষ দুটি দেশের মধ্যে অবস্থান করছে।
অ্যাথলেটিকস ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান ডেভিড হাওম্যান ভারতের এই পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভারতে ডোপিং সমস্যা দীর্ঘকাল ধরে একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে বিদ্যমান। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, দেশটির অভ্যন্তরীণ অ্যান্টি-ডোপিং ব্যবস্থার মান এই বিশাল ঝুঁকির মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী বা আধুনিক নয়।
হাওম্যান আরও যোগ করেন যে, যদিও ভারতীয় অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলে আসছে, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান বা ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। ফলে বিশ্বমঞ্চে খেলাধুলার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভারতকে এই কঠোর নজরদারির আওতায় আনা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। এখন থেকে বড় কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে ভারতীয় অ্যাথলেটদের আরও বেশিবার এবং অত্যন্ত নিবিড়ভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার (ডোপ টেস্ট) সম্মুখীন হতে হবে।
খেলাধুলায় সাফল্যের নেশা যখন অসাধু উপায়ে শক্তি অর্জনের পথে ধাবিত হয়, তখন তা কেবল একজন অ্যাথলেটের ক্যারিয়ারই ধ্বংস করে না, বরং পুরো দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধূলিসাৎ করে দেয়। ভারতের এই দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ক্রীড়াঙ্গনকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে হলে কেবল আইন করলেই হবে না, বরং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা এবং স্বচ্ছ তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, কৃত্রিম উপায়ে সাফল্য পাওয়ার এই প্রচেষ্টা অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়াক্ষেত্রে এক বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।