পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের তারিখ ঘোষণা করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই। ভৌগোলিক অবস্থানের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও চাঁদ দেখার ভিন্নতার কারণে দেশগুলোতে ঈদের দিনে সূক্ষ্ম পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে নতুন ঘোষণা সামনে এসেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় আগামী ২৭ মে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ব্রুনেইতে ঈদ হবে একদিন পিছিয়ে, অর্থাৎ ২৮ মে বৃহস্পতিবার।
এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো দেশগুলোর চাঁদ দেখার স্থানীয় হিসাব। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার সরকারি তথ্যমতে, গত রোববার ১৭ মে জিলকদ মাসের সমাপ্তি ঘটেছে। ফলে সোমবার থেকে সেখানে জিলহজ মাস গণনা শুরু হয়েছে। এই হিসেবেই আগামী ২৭ মে কোরবানির ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, সুলতানাত অব ব্রুনেই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার দেশটির আকাশে জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা যায়নি। তাই ব্রুনেইতে জিলকদ মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে এবং পরদিন মঙ্গলবার থেকে জিলহজ মাসের গণনা শুরু হবে। সেই হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ঈদের দিন নির্ধারিত হয়েছে ২৮ মে বৃহস্পতিবার।
ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে চাঁদ দেখার এই পদ্ধতিটি মূলত ঐতিহ্যের অংশ। গত রোববার সৌদি আরবসহ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশগুলোর চাঁদ দেখা কমিটিগুলো জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার জন্য বৈঠকে বসেছিল। পবিত্র হজের মৌসুম এবং কোরবানির ঈদের সঠিক তারিখ নির্ধারণে এই চাঁদ দেখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকায় চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু দেশ ঈদ নির্ধারণে সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের (অবজারভেটরি) সাহায্য নিচ্ছে। যদিও আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, তবুও অধিকাংশ মুসলিম দেশে ঐতিহ্যগতভাবে খালি চোখে চাঁদ দেখা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব—এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটিয়েই চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে থাকে সারা বিশ্বের মুসলিমরা। কারণ, সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার ওপরই ভিত্তি করে হজের আনুষ্ঠানিকতা এবং ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারিত হয়।
ঈদুল আজহা শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল একটি দিন। ভৌগোলিক ও স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিন্নতার কারণে একই অঞ্চলে ঈদের দিনে ব্যবধান তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে এই ভিন্নতা ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ তৈরি করে না, বরং প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্থানীয় চাঁদ দেখার নিয়মনীতি মেনে উৎসব পালন করে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে থেকেও সব মুসলমান একটি অভিন্ন ধর্মীয় চেতনার সুতোয় আবদ্ধ।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইতে পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোতে ঈদের তারিখে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।