ভারতে চিকিৎসা শাস্ত্রে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (জাতীয় যোগ্যতা অর্জন ও প্রবেশিকা পরীক্ষা)-এর প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সব দাবি কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় দীর্ঘ ৩৬ দিন পর আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবিলম্বের আন্দোলনস্থল ও রাজপথ ছেড়ে নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত প্রতিটি দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার আন্তরিক। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা সব প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা মামলা (এফআইআর) অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁস বিতর্কের জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ও সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
দীর্ঘ দেড় মাসের কাছাকাছি সময় ধরে চলা এই অহিংস লড়াইয়ের সফলতা সম্পর্কে সিজেপির অপর মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা জানান, শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখেই সরকার তাদের ভুল উপলব্ধি করতে পেরেছে। উল্লেখ্য, এর আগে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থান থেকে সরেননি। তাদের সাফ কথা ছিল—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—নিহতদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সব মামলা প্রত্যাহার করা, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং তাদের প্রস্তাবিত পাঁচ দফা পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার বাস্তবায়ন করা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সিজেপি জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে তাদের দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে চার সপ্তাহ পর সরকারের সঙ্গে সিজেপির একটি প্রতিনিধিদল পুনরায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবে। ওই বৈঠকেই ক্ষতিপূরণ প্রদান ও স্থায়ী নীতি নির্ধারণের বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।