ভারতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভর্তির জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (জাতীয় যোগ্যতাভিত্তিক প্রবেশিকা পরীক্ষা)-এর প্রশ্নফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় চলছে সমগ্র দেশজুড়ে। ঘটনার জের ধরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীরা সরব হলেও সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ (জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট) সরকার। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজপথের দাবির মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো সুযোগ নেই।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে সরকারের শীর্ষ সূত্রের বরাতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ৫৭ বছর বয়সী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা বা তার পদত্যাগ মেনে নেওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।
আন্দোলনকারীদের শর্ত ও সরকারের অবস্থান
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পর আন্দোলনরত রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থী একযোগে রাজপথে নেমেছেন। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা ছিল, রাজপথ ছাড়ার এবং আন্দোলন স্থগিত করার প্রথম ও প্রধান শর্তই হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ কিংবা তাকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা।
তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো এই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করে জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘পদত্যাগ নেওয়া হলো সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত।’ কিন্তু সরকার সহজ পথ না বেছে সমস্যার গোড়ায় পৌঁছাতে চায়। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ একটি সুনির্দিষ্ট জনমত ও আস্থা রেখে মোদী সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তাই দায়িত্ব থেকে সরে না গিয়ে ব্যবস্থার কার্যকর সমাধান করে দেখানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
পরীক্ষা সংস্থায় সংস্কারের আশ্বাস
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি পরীক্ষা পরিচালনকারী বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান 'এনটিএ' (জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা)-র প্রশাসনিক ও কারিগরি দুর্বলতাগুলো দূর করার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার কাঠামোগত ত্রুটি ও অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা ইতোমধ্যে তৈরি করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই এসব ত্রুটি দূর করে একটি স্থায়ী ও স্বচ্ছ সমাধান বের করা হবে। এছাড়া প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত একাধিক অপরাধী চক্রকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরকারের এমন কঠোর মনোভাবের পর এটি স্পষ্ট যে, মন্ত্রীকে পদচ্যুত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেয়ে বরং সমগ্র পরীক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলাকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রাধান্য দিচ্ছে মোদী সরকার।