Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

পাকিস্তানে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রীবাহী রেলগাড়িতে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা: নিহত ২৪

Roksana
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
পাকিস্তানে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রীবাহী রেলগাড়িতে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা: নিহত ২৪

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী রেলগাড়িতে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ যাত্রীদের বহনকারী ওই ট্রেনে নির্মম এই হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৮২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যা উৎসবের আগ মুহূর্তে পুরো অঞ্চলে চরম শোক ও গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।


রোববার (২৪ মে) সকালে বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার চামান ফাটক (গেট) সংলগ্ন এলাকায় মর্মান্তিক এই বোমা হামলার ঘটনাটি ঘটে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যম সিনহুয়া স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে হতাহতের এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে। পবিত্র ঈদের আনন্দ মুহূর্তে এমন রক্তক্ষয়ী ও বর্বরোচিত হামলায় পুরো দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় প্রশাসন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, 'জাফর এক্সপ্রেস' নামের ওই স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী রেলগাড়িটি (শাটল ট্রেন) মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে কোয়েটা সেনানিবাস থেকে গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছিল। সামনেই মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ, তাই দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা শেষে ছুটি কাটাতে তারা নিজেদের পরিবার ও পরিজনের কাছে ফিরছিলেন। স্থানীয় সময় সকাল আটটা বেজে পাঁচ মিনিটের দিকে চামান ফাটকের কাছাকাছি পৌঁছাতেই আকস্মিকভাবে রেলগাড়িটি লক্ষ্য করে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিকট শব্দের এই বিস্ফোরণে চারপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যেই উৎসবের আনন্দ বিষাদের কালো ধোঁয়ায় পরিণত হয়।

হামলার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, যাত্রীবাহী ওই রেলগাড়ির মূল চালিকাযন্ত্রসহ (ইঞ্জিন) তিনটি বড় কামরা (বগি) প্রচণ্ড ধাক্কায় লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এর মধ্যে দুটি কামরা পুরোপুরি উল্টে গিয়ে দাউদাউ করে আগুনে জ্বলতে শুরু করে। ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের আর্তনাদে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি সাধারণ যাত্রীবাহী যানবাহনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাসপাতাল ও উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, হতাহতদের তালিকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সাধারণ নারী ও অবুঝ শিশুও রয়েছে, যারা হয়তো ঈদের কেনাকাটা বা নিজেদের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ওই পথ ব্যবহার করছিল।

বিস্ফোরণের পরপরই দ্রুতগতিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় অগ্নিনির্বাপক দল, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয় সাধারণ মানুষও প্রথমদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। রক্তাক্ত ও দগ্ধ আহতদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত ৫৭ জনকে একটি সামরিক হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ২৫ জনকে কোয়েটার সাধারণ চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আহতদের জীবন বাঁচাতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে আরও গতি আনতে ঘটনাস্থলে বিশেষ মালবাহী গাড়ি ও একটি চিকিৎসাসুবিধা সম্বলিত ত্রাণবাহী রেলগাড়ি পাঠানো হয়েছে। পুরো এলাকাটি বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া ঘেরাটোপে রয়েছে এবং সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও আলামত সংগ্রহের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ধারণা করছে, এই নির্মম হামলায় অন্তত ৭০ কিলোগ্রামের বেশি শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা ছিল বলে গভীরভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন বিছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী সংগঠন এই পৈশাচিক হামলার নেপথ্যে রয়েছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যায়নি এবং কোনো সশস্ত্র দল এখনো এর দায়ও স্বীকার করেনি। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতে ওই অঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।


উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরার পথে এমন নির্মম হামলা কেবল একটি রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর ওপরই আঘাত নয়, বরং এটি মানবতা ও সভ্যতার চরম অবমাননা। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই নানা রাজনৈতিক সংঘাত, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। আর এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সবচেয়ে বড় ও অসহায় শিকার হচ্ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা ভৌগোলিক সীমানা নেই, তা কেবল মৃত্যু, রক্তপাত ও চারপাশের ধ্বংসই ডেকে আনে। ঈদের মতো একটি পবিত্র উৎসবের প্রাক্কালে এমন রক্তক্ষয়ী ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধীদের কাছে মানুষের জীবনের বিন্দুমাত্র কোনো মূল্য নেই। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কঠোর, মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের জীবনের এই নিরাপত্তাহীনতা ও রক্তের হোলিখেলা কখনোই বন্ধ হবে না, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজের জন্য চরম অশনিসংকেত।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রীবাহী রেলগাড়িতে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা: নিহত ২৪

R
Roksana | 24 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার