Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

পবিত্র আশুরার তাৎপর্য: করণীয় ও বর্জনীয় আমলসমূহ

Roksana
29 August 2026, 01:52 AM পড়তে ১ মিনিট
পবিত্র আশুরার তাৎপর্য: করণীয় ও বর্জনীয় আমলসমূহ

ইসলামি ইতিহাসে মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ এক দিন ‘পবিত্র আশুরা’। হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা সময় ও কালকে আবর্তিত করেন এবং মানবজাতির জন্য কিছু বিশেষ দিনকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আশুরার এই দিনটি তেমনই এক বরকতময় ও পুণ্যময় সময়, যা ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এই দিনে কিছু উত্তম করণীয় কাজ রয়েছে, যা অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন বান্দা অশেষ সওয়াবের অধিকারী হতে পারেন।

আশুরার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। ইসলামি বিধান অনুযায়ী এই দিনে রোজা রাখা ‘মুস্তাহাব’ (পছন্দনীয় আমল)। তবে ইহুদিদের ধর্মীয় রীতির সঙ্গে যেন সাদৃশ্য না হয়, সেজন্য আশুরার আগের দিন অথবা পরের দিনসহ মোট দুটি রোজা রাখার জোরালো নির্দেশনা রয়েছে। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা (ক্ষতিপূরণ) হয়ে যাবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘তোমরা এই দিনে ইহুদিদের বিপরীত করো; আশুরার আগের একদিন অথবা পরের একদিনসহ রোজা রাখো।’ (মুসনাদে আহমদ)।

এই পবিত্র দিনের আরেকটি বিশেষ করণীয় আমল হলো নিজের family পরিজন তথা পরিবার-পরিজন ও সন্তানদের প্রতি সদয় হওয়া এবং তাদের জন্য সাধ্যমতো ভালো খাবার ও পানীয়ের সুব্যবস্থা করা। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিন তার পরিবার-পরিজনের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করবে (অর্থাৎ ভালো খাবারের ব্যবস্থা করবে), আল্লাহ তাআলা সারা বছর তার প্রতি উদারতা বজায় রাখবেন এবং তার জীবিকায় বরকত দান করবেন।’ এটি মুমিনদের পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করতে এবং পারিবারিকভাবে দিনটির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।

ঐতিহাসিকভাবে আশুরার মূল ফজিলত হজরত মুসা (আ.) এবং বনি ইসরাইলের মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ফেরাউনের অত্যাচারী কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘটনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মহান আল্লাহর এই অসীম নেয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ হজরত মুসা (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীরা এই দিনে রোজা রাখতেন। পরবর্তীতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর সাহাবিগণও এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে রোজা পালনের ধারা অব্যাহত রাখেন।

পরবর্তীকালে এই দিনেই সংঘটিত হয় কারবালার সেই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। নবীজির (সা.) প্রিয় নাতি হজরত হোসাইন (রা.) আল্লাহর দ্বীনের বাণীকে সমুন্নত রাখতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে কারবালার ময়দানে শাহাদাত বরণ করেন। তিনি সত্যের জন্য যে অটলতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, তা মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা। তবে ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বুক চাপড়ে কান্নাকাটি করা বা মাতম করার মতো প্রথাগুলোর কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই। বরং ধৈর্য ধারণ করা, ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আপসহীন আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করাই মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। আশুরার দিনটি আমাদের আত্মত্যাগ, শুকরিয়া এবং তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের শিক্ষা দেয়।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অন্যান্য

পবিত্র আশুরার তাৎপর্য: করণীয় ও বর্জনীয় আমলসমূহ

R
Roksana | 26 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার