Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, নিহত অন্তত ৮: ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি ও জাপানে সতর্কতা

Roksana
29 August 2026, 02:06 AM পড়তে ১ মিনিট
ফিলিপাইনে শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, নিহত অন্তত ৮: ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি ও জাপানে সতর্কতা

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে সুনামি আঘাত হেনেছে এবং জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ফিলিপাইনের মিন্দানাও অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় তীব্র ঝাঁকুনিতে মিন্দানাও এবং আশপাশের অঞ্চলের বেশ কিছু বহুতল ভবন হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। শত শত ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র দিয়েগো মারিয়ানো সাংবাদিকদের কাছে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকারীদের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে তিনজন, জেনারেল সান্তোস শহরে তিনজন এবং দক্ষিণ কোতাবাতো প্রদেশে দুইজন রয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলের মধ্যে জেনারেল সান্তোস শহরটি অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষের বসবাসকারী এই জনবহুল শহরের দক্ষিণে সমুদ্রগর্ভে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে কম্পন সৃষ্টি হওয়ার কারণে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে মিন্দানাও অঞ্চলের উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। উপকূলীয় অঞ্চলের শত শত পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পাহাড়ি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে শুরু করে।

এই শক্তিশালী কম্পনটি কেবল ফিলিপাইনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মিন্দানাওয়ের সমুদ্রগর্ভের এই আলোড়নের ফলে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলে মাঝারি আকারের সুনামি (সমুদ্রের বিশাল ক্ষতিকর ঢেউ) সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সুনামি আঘাত হানার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। জাপানের উপকূলবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সমুদ্রতীর থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (যা আন্তর্জাতিকভাবে ভূমিকম্পের তথ্য সংগ্রহকারী বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান) জানিয়েছে, প্রথম দফার মূল কম্পনের প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকে ওই অঞ্চলটিতে দফায় দফায় শক্তিশালী আফটারশক বা অনুকম্পন (মূল ভূমিকম্পের পরবর্তী তুলনামূলক ছোট কম্পন) অনুভূত হতে থাকে। মূল কম্পনের পর অন্তত এক ডজন ছোট-বড় ঝাঁকুনি নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় অনুকম্পনটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৫। ঘন ঘন এই পরাঘাতের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই ভেঙে পড়া স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি যেতে ভয় পাচ্ছেন, কারণ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী ও বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো দুর্গত মানুষের কাছে জরুরি খাদ্য, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক টেকটোনিক প্লেটের (ভূত্বকের বিশালাকার চলমান অংশ) নড়াচড়ার কারণে এই অঞ্চলে প্রায়শই অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে থাকে। এবারের মিন্দানাও উপকূলের সমুদ্রগর্ভস্থ ফাটলটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা সমুদ্রের তলদেশকে সজোরে নাড়া দিয়েছে, যার জের ধরে ইন্দোনেশিয়া ও জাপানের মতো দূরবর্তী দেশগুলোতেও সুনামির ঢেউ বা সতর্কবার্তা পৌঁছাল। ফিলিপাইনের আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি কোনো নৌকা বা জলযান যেন সমুদ্রে না যায়। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে পুনরায় প্রবেশ করার আগে সেগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইন ও তার পার্শ্ববর্তী দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘অগ্নিবলয়’ বা রিং অব ফায়ার অঞ্চলের অন্তর্গত, যা অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এবারের শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আবারও প্রমাণ করল যে, প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররূপের সামনে মানুষের প্রস্তুতি কতটা সীমাবদ্ধ। একই সাথে এই দুর্যোগের ফলে একাধিক দেশে সুনামি সৃষ্টি এবং সতর্কতা জারির ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সমুদ্রকেন্দ্রিক বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় কোনো একক দেশের সীমানায় আটকে থাকে না। দুর্যোগ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক স্তরে আগাম সতর্কবার্তা আদান-প্রদান এবং উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি। 

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, নিহত অন্তত ৮: ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি ও জাপানে সতর্ক...

R
Roksana | 08 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার