বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে [ফেসবুক] একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সোমবার সকালে তাঁর ভেরিফায়েড [যাচাইকৃত] ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি আগামী দিনে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা [এআই], ডিজিটাল অর্থনীতি, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আধুনিক কৃষি, হালাল শিল্প এবং দক্ষ জনশক্তি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই খাতগুলোতে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হবে।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিজের পোস্টে বিশদ আলোচনা করেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানান, বৈঠকে তাঁরা মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন। এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজার ওপর জোর দিয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতাই।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনকেই এই সংকটের স্থায়ী ও সর্বোত্তম সমাধান বলে মনে করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। লাখ লাখ আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক প্রতিশ্রুতিকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সাধুবাদ জানান আনোয়ার ইব্রাহিম।
দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বাংলাদেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, দুই দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার এখনও অনেক বড় দরজা উন্মুক্ত রয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিম দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, সদ্য স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতের পথ সুগম করবে।