Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন, ক্রেতাদের স্বস্তি

Roksana
29 August 2026, 01:56 AM পড়তে ১ মিনিট
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন, ক্রেতাদের স্বস্তি

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করেই বড় ধরনের পতন ঘটেছে সোনার দামে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তীব্র ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, বছরের দ্বিতীয় ভাগে এসে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে এই মূল্যবান ধাতু। তবে যেকোনো ধরনের নতুন ভূরাজনৈতিক সংকট কিংবা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতিমালার পরিবর্তন সোনাকে আবারও চড়া করে তুলতে পারে বলে আভাস দিয়েছে স্বর্ণ খাতের বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) [বিশ্ব স্বর্ণ পরিষদ]।

বছরের শুরুটা সোনার বাজারের জন্য ছিল অত্যন্ত অস্থির। গত জানুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স (স্বর্ণ পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক) সোনার দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে জুন মাসের শেষের দিকে এসে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং দাম কমে ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে সোনার বাজারে সামগ্রিকভাবে দাম কমেছে প্রায় সাত শতাংশ।

সোনার এই দরপতন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউজিসি জানিয়েছে, ধীরগতির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় সোনার বাজার এখন অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির কারণে বছরের বাকি সময়ে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকবে এবং এটি ৫ শতাংশ কম-বেশিতে ওঠানামা করতে পারে।

জানুয়ারির নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির পর এই বড় পতন সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মনে স্বস্তি এনেছে। দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় যারা সোনা কেনা বন্ধ রেখেছিলেন, তারা আবারও বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান মূল্য হ্রাসকে বাজারের স্থায়ী সংশোধন বলা যাবে না; বরং বাজার এখন নতুন কোনো বৈশ্বিক ধাক্কার জন্য অপেক্ষা করছে।

ডব্লিউজিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, নতুন কোনো ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা সুদের হার কমার সম্ভাবনা দেখা দিলে সোনার দাম আবারও আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলার বা তার বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। অতীতে দেখা গেছে, দাম ১০ শতাংশের বেশি কমলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনা কেনা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে দাম খুব বেশি কমার সুযোগ থাকে না।

বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের [মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ] সুদের হারের সিদ্ধান্তের ওপর সোনার দামের ওঠানামা অনেকাংশে নির্ভরশীল। চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে সুদের হার আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুদের হার বাড়লে সাধারণত সোনার দাম কমে যায়। কিন্তু যদি সুদের হার কমানোর সামান্যতম আভাসও পাওয়া যায়, তবে সোনার দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হবে।

সোনার বাজারে এশিয়ার ক্রেতা ও এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেনের সময় সোনার দাম কমলেও এশিয়ার বাজারে লেনদেনের সময় তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মূলত এশিয়ার সাধারণ ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীরা কম দামে সোনা কিনে বাজারকে বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা করছেন। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে বিয়ের মৌসুম ও ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সোনার চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। এর পাশাপাশি, ২০২২ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গড়ে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার টন সোনা কিনছে, যা সোনার দামকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে।

ডব্লিউজিসি-এর পরামর্শ অনুযায়ী, বছরের বাকি সময়ে সোনার দাম বর্তমান সীমার কাছাকাছি থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি সোনা কেনার একটি উপযুক্ত সুযোগ হতে পারে। তবে বড় ধরনের কোনো বৈশ্বিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সোনার বাজার এই সীমার মধ্যেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন, ক্রেতাদের স্বস্তি

R
Roksana | 02 July 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার