ভারতের একটি বড় অংশজুড়ে সক্রিয় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এর প্রভাবে দেশটিতে অতিভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলোতে এই অতিবৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ভাটি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বুলেটিনে জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতজুড়ে এই বৈরী আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে। এসব অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার পাশাপাশি বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আসাম ও মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ঢাল বেয়ে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জে নেমে আসে। একইভাবে ত্রিপুরার অতিবৃষ্টির পানি বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে এসে পড়ে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলোর ওপর এই বৃষ্টির প্রভাব সরাসরি পড়ে। বিশেষ করে সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই, যদুকাটা ও মনু নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। অতীতেও চেরাপুঞ্জিসহ মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছিল। নতুন করে অতিবৃষ্টির এই পূর্বাভাস তাই বাংলাদেশের নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চল ছাড়াও ভারতের রাজধানী দিল্লি, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা শহরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করতে পারে। পাহাড়ি রাজ্য উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উত্তর প্রদেশেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় 'রেড অ্যালার্ট' বা লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড ও উড়িষ্যাতেও বজ্রপাতসহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্য ভারতের রাজ্য মধ্য প্রদেশেও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দক্ষিণের কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির আভাস রয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে রাজস্থান ও পাঞ্জাবের বাকি অংশে মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি প্রবেশ করার জন্য পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বাংলাদেশের নদীগুলো আগে থেকেই ভরাট থাকায় অতিরিক্ত পাহাড়ি ঢল দ্রুত প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে। এই অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বিক নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।