মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই বৈঠকে যুদ্ধের অবসান ও টেকসই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ওমানের রাজধানী মাস্কাটের আল-বারাকা রাজপ্রাসাদে রোববার সকালে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা নিরসনে এই দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর দেশের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো নিয়ে উভয়েই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বৈঠককালে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমানের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জটিল সংকট সমাধানে ওমানের মধ্যস্থতা বরাবরই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, রাশিয়ার পর ওমান সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করার কথা রয়েছে ইরানের। এই ধারাবাহিকতায় মাস্কাট সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আঞ্চলিক সংকট নিরসনে তাঁর দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক সংলাপই হচ্ছে একমাত্র পথ যা জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সুলতান মনে করেন, বৈরিতা কমিয়ে আনতে আলোচনার টেবিলকে সক্রিয় রাখা এখন সময়ের দাবি।
বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি নতুন রূপরেখা (ফ্রেমওয়ার্ক) নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, পাকিস্তান সফরের সময় তিনি একটি বিশেষ প্রস্তাবনা পেশ করেছেন যা যুদ্ধের স্থায়ী অবসানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ওমানের সুলতান এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান বিশ্বাস করে, যদি সব পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে আন্তরিক হয়, তবে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান ও ওমানের এই ঘনিষ্ঠ আলোচনা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। যুদ্ধ নয়, বরং সংলাপের মাধ্যমেই যে বড় বড় সংকটের সমাধান সম্ভব, তা এই বৈঠক থেকে আবারও স্পষ্ট হয়েছে। ওমানের মতো অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী এবং ইরানের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তির সমন্বয় কি সত্যিই এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করতে পারবে? বিষয়টি এখন বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের ভাবিয়ে তুলছে।