মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে তিনটি মোটরসাইকেলের এক ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কর্মী। শুক্রবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে শোকের আবহ তৈরি করেছে।
দূর প্রবাসে জীবিকার তাগিদে গিয়ে অকালে প্রাণ হারালেন আরও এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে জোহর রাজ্যের পাসির গুদাং এলাকার মাসাই কংকং সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মালয়েশিয়ার সেরি আলাম জেলা পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ সোহাইমি ইশাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই বাংলাদেশি কর্মী তার নিজস্ব দুই চাকার বাহন (হোন্ডা ওয়েভ মোটরসাইকেল) চালিয়ে মাসাই শহর থেকে কোটা মাসাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে হঠাৎ তিনি যানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং দ্রুতগামী মোটরসাইকেলটি সড়কের বিপরীত লেনে ঢুকে পড়ে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের (মোডিনাস) সাথে তার সজোরে ধাক্কা লাগে।
সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি ছিটকে মূল সড়কের ওপর পড়ে যান। ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে আসা আরেকটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল (ইয়ামাহা) তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় অন্য দুই মোটরসাইকেলের আরোহী দুই মালয়েশীয় তরুণ সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাসির গুদাং হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৮৭ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪১(১) ধারায় (বেপরোয়া চালনার ফলে মৃত্যু) এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে এবং কোনো প্রত্যক্ষদর্শী থাকলে তাদের পুলিশের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে।
বিদেশের মাটিতে এভাবে একেকজন কর্মক্ষম মানুষের মৃত্যু কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের গল্প। সড়ক সচেতনতার অভাব নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি—কারণে যাই হোক না কেন, প্রবাসে আমাদের ভাইদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি। এই বিয়োগান্তক ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সড়কে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার কোনো বিকল্প নেই।