গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে তেহরানের একটি মসজিদে আগুন দেওয়া এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে অভিযুক্ত আমির আলি মিরজাফারি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। দেশটির বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম 'মিজান'-এর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। মিরজাফারিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি নেটওয়ার্কের (গোপন চক্র) প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত আমির আলি মিরজাফারি তেহরানের কোলহাক মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। ইরানের সুপ্রিম কোর্ট (সর্বোচ্চ আদালত) তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখার পর মঙ্গলবার তা কার্যকর করা হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ইরান সরকারের দাবি, মিরজাফারি সেই বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারের পর মিরজাফারি জানুয়ারির বিক্ষোভে অংশগ্রহণ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর এবং পেট্রোল বোমা (জ্বালানি ভরা কাঁচের বোতল) ব্যবহার করে মসজিদে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বির্তক সৃষ্টি হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইরানের বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করে জানিয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। যদিও ইরান সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছে।
একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগ নিঃসন্দেহে একটি গর্হিত অপরাধ। তবে যখন কোনো বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রশ্ন তোলে, তখন সেই দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করে। ইরানের এই পদক্ষেপ দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমনে সহায়ক হবে নাকি বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশটির দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে, তা সময়ই বলে দেবে। বিশেষ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার দাবিটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।