মহাকাশ গবেষণা ও পারমাণবিক শক্তি নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দশজন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীর রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হোয়াইট হাউস এই ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন, যা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে, অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানীর অন্তর্ধান ও মৃত্যুর বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, নিখোঁজ হওয়া এই ব্যক্তিদের প্রায় সবারই স্পর্শকাতর পারমাণবিক গবেষণা ও মহাকাশ অভিযানের গোপন নথিতে প্রবেশের অধিকার ছিল।
নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন নাসার (যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা) জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মনিকা জাসিন্তো রেজা। ক্যালিফোর্নিয়ায় পাহাড় ভ্রমণে গিয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। একইভাবে আলবুকার্কের জাতীয় নিরাপত্তা কেন্দ্রে কর্মরত সরকারি ঠিকাদার স্টিভেন গার্সিয়া এবং লস আলামোস ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মী অ্যান্থনি চাভেজ নিখোঁজ হয়েছেন। এমনকি বিমান বাহিনীর সাবেক বড় কর্তাদের একজন, মেজর জেনারেল উইলিয়াম ‘নিল’ ম্যাককাসল্যান্ডও গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিরুদ্দেশ।
রহস্যের জট আরও পাকিয়ে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের অকাল মৃত্যুর ঘটনাগুলো। মহাকাশ গবেষণার গভীরতম প্রকল্পগুলোতে কাজ করা বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড এবং মাইকেল ডেভিড হিকসের মৃত্যু হয়েছে অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যে। তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। যখন হোয়াইট হাউস নাসা ও প্রতিরক্ষা দপ্তরকে পারমাণবিক শক্তিচালিত মহাকাশ যান তৈরির কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই এই বিজ্ঞানী হারানোর ঘটনাগুলো জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এভাবে নিখোঁজ হওয়ার প্রবণতা কোনো বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা বা এফবিআই-কে (যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা) এই তদন্তে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিজ্ঞানীদের প্রত্যেকের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ছিল, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
বিজ্ঞানের জগতে অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের এভাবে হারিয়ে যাওয়া কেবল একটি দেশের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তি এই অন্তর্ধানের পেছনে কাজ করছে, তা নিয়ে রহস্যের জাল দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। পর্দার আড়ালের এই সত্য যদি উদঘাটন করা না যায়, তবে আগামী দিনে মেধাবী গবেষকরা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করতে সংশয় প্রকাশ করবেন। এই রহস্যের সমাধান কেবল সত্য জানার জন্য নয়, বরং বিজ্ঞানীদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যও জরুরি।