Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

যুদ্ধের দামামায় চিরবিদায়ের আগে ইরানের সেনাপ্রধানের শেষ বার্তা

Roksana
27 August 2026, 08:17 PM পড়তে ১ মিনিট
যুদ্ধের দামামায় চিরবিদায়ের আগে ইরানের সেনাপ্রধানের শেষ বার্তা

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার চরম মুহূর্তে নিহত ইরানি সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের শেষ বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে। মৃত্যুর ঠিক আগে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদোল রহিম মোসাভির হাতে লেখা একটি নোট বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 সম্প্রতি ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঠিক আগে ইরানের সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদোল রহিম মোসাভি এই শেষ বার্তাটি লিখেছিলেন। পৃথিবী ও জীবনের নশ্বরতা নিয়ে লেখা এই বার্তায় তিনি লিখেছেন, পৃথিবী আসলেই তুচ্ছ। কারণ পুরো পৃথিবী জয় করলেও আসলে কিছুই অর্জন করা হয় না; আবার সবকিছু হারিয়ে ফেললেও মূলত কিছুই হারানোর থাকে না। তার এই দার্শনিক উপলব্ধিতে যেন আসন্ন মৃত্যুর ছায়াই ফুটে উঠেছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর চালানো সেই ভয়াবহ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা নিহত হয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন ও মার্কিন সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন ভোরে খামেনি যখন তার ঘনিষ্ঠ পরামর্শক ও শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন, ঠিক তখনই হামলাটি চালানো হয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই হামলায় খামেনির পাশাপাশি ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের উচ্চপদস্থ সচিবরাও প্রাণ হারিয়েছেন।

ঘটনার ভয়াবহতার প্রমাণ পাওয়া যায় আল-জাজিরার প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে। ছবিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন ও আশপাশের এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে। স্থাপনার চারপাশে কালো দাগ দেখে বিশেষজ্ঞগণ ধারণা করছেন, সেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী কোনো অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুরো এলাকাকে মুহূর্তেই মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। তবে এই হামলায় ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়ে কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনা কেবল ইরান বা মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। যে সময়টায় নেতারা একটি সুরক্ষিত স্থানে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট। হামলার পরপরই ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। বিশেষ করে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু এবং সামরিক কর্মকর্তাদের হারিয়ে দেশটি এখন এক চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইরানি সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা এক গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। জেনারেল মোসাভির শেষ বার্তাটি যেমন তার ব্যক্তিগত জীবনদর্শনের পরিচয় দেয়, তেমনি যুদ্ধের বিভীষিকায় হারিয়ে যাওয়া হাজারো প্রাণ ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবিও হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া প্রাসাদের ছবিগুলো যেন যুদ্ধের নির্মম নিষ্ঠুরতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এল।

একজন উচ্চপদস্থ সেনাপ্রধানের জীবনের শেষ মুহূর্তের এই বার্তাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতার দম্ভ বা ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ের চেয়েও জীবনের তাৎপর্য অনেক গভীর। পৃথিবীজুড়ে যখন ধ্বংস ও যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রনায়ক—সবাইকেই শেষ পর্যন্ত নশ্বরতার মুখোমুখি হতে হয়। জেনারেল মোসাভির এই বার্তাটি কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অশান্তি ছড়ানো সব পক্ষের জন্যই এক বড় নৈতিক প্রশ্ন ছুড়ে দেয়: ধ্বংস আর প্রাণহানির বিনিময়ে অর্জিত এই জয় কি আসলেই অর্থবহ?

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের দামামায় চিরবিদায়ের আগে ইরানের সেনাপ্রধানের শেষ বার্তা

R
Roksana | 16 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার