Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

শান্তির আশায় ইসলামাবাদ: ৯০ মিনিটের জাদুতে কি ফিরবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা?

BNJK
29 August 2026, 02:05 AM পড়তে ১ মিনিট
শান্তির আশায় ইসলামাবাদ: ৯০ মিনিটের জাদুতে কি ফিরবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়ের কাঁটা পেরোনোর আগেই অসাধ্য সাধন করেছে পাকিস্তান। একটি বড় ধরনের সংঘাত ও ৯ কোটি সাধারণ ইরানির জীবন বিপন্ন হওয়া থেকে আপাতত রক্ষা মিলেছে ইসলামাবাদে আয়োজিত এই বিরল কূটনৈতিক তৎপরতায়।

পাকিস্তান যে এভাবে বিশ্ব দরবারে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হবে, তা হয়তো মাস কয়েক আগেও কেউ কল্পনা করতে পারেনি। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, ইসলামাবাদ এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ শুরু করা যতটা সহজ, থামানো যে তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন—সেই চিরন্তন সত্যই এখন ফুটে উঠছে আলোচনার টেবিলে। যদিও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানের পক্ষ থেকে ড্রোন হামলা কিংবা ইসরায়েলের লেবাননে নির্বিচারে আক্রমণের মতো ঘটনা ঘটেছে, তবুও আলোচনার আশাটুকু এখনও টিমটিমে প্রদীপের মতো জ্বলছে।

লেবাননের ট্র্যাজেডি আমাদের ব্যথিত করে, তবে এর পেছনে সে দেশের ধারাবাহিক সরকারগুলোর ব্যর্থতাও অনস্বীকার্য। হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর লাগাম টেনে ধরে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের ঘোষণা অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করা এবং শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্তটি দেরিতে হলেও ইতিবাচক। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ইসলামাবাদের এই শান্তি আলোচনায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং ইরান উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, যাতে ইসরায়েলের বর্বর হামলার আর কোনো অজুহাত না থাকে।

ইসলামাবাদ আলোচনার ফলাফল নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। ১৯৯৮ সালের উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তিচুক্তি নিয়ে মার্কিন সিনেটর জর্জ মিচেলের সেই বিখ্যাত উক্তিটি এখানে স্মরণযোগ্য—তিনি বলেছিলেন, শান্তিচুক্তি হলো ‘৭০০ দিনের ব্যর্থতা এবং মাত্র একদিনের সাফল্য’। ইরানি শাসকগোষ্ঠী যদি বুঝতে পারে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, তবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা হয়তো আলোচনায় অনড় থাকবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সম্ভাবনা না দেখত, তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, জ্যারেড কুশনার বা স্টিভ উইটকফের মতো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে পাকিস্তানে পাঠাত না। মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট—ইরানকে ক্ষমতাহীন করা এবং তাদের ছায়াযুদ্ধ (প্রক্সি ওয়ার), দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (ব্যালিস্টিক মিসাইল), ড্রোন ও পারমাণবিক কর্মসূচির হুমকি থেকে অঞ্চলটিকে মুক্ত রাখা।

 আমরা কি তবে কোনো অলৌকিক ঘটনার অপেক্ষায় থাকব? আবেগ সরিয়ে বাস্তববাদী হওয়াটাই এখন শ্রেয়। যখন প্রতিটি পক্ষ নিজেদের সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন ভবিষ্যদ্বাণী করা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান যেভাবে নিজেকে সমস্যার উৎস থেকে সমাধানের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, তা বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন মোড়। এখন দেখার বিষয়, একদিনের সেই ‘সাফল্য’ ইসলামাবাদে ধরা দেয় কি না।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

শান্তির আশায় ইসলামাবাদ: ৯০ মিনিটের জাদুতে কি ফিরবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা?

B
BNJK | 11 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার