Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

শান্তি আলোচনার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলা: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

Roksana
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
শান্তি আলোচনার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলা: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যখন দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি ভূখণ্ডে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনাকে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমা হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও শান্তি প্রচেষ্টাকে গভীর খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।

সাত সপ্তাহ ধরে চলা এক অস্বস্তিকর ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোররাতে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির পার্শ্ববর্তী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক সামরিক হামলার পর নতুন করে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে ওই এলাকায় একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো প্রান্তর।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কঠোর বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি স্পষ্টতই চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন। যখন দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষভাবে শান্তি চুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন এমন উসকানিমূলক পদক্ষেপ পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকেই গভীর খাদের দিকে ঠেলে দেবে বলে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের এই সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানে যে হামলা চালিয়েছে তা মোটেই আক্রমণাত্মক নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে, যাতে তারা হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে কোনো সামুদ্রিক মাইন (জাহাজ ধ্বংসকারী বিস্ফোরক) স্থাপন করতে না পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি মানতে নারাজ ইরান। মঙ্গলবার ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এক কড়া বার্তায় মার্কিন বাহিনীকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাল্টা এবং দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া তাদের সম্পূর্ণ বৈধ অধিকার। আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলার রাতেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) ভূপাতিত করেছে এবং আকাশসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করা অপর একটি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে সক্ষম হয়েছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইসরায়েলের আগ্রাসন। শান্তি প্রচেষ্টাকে চরম চাপের মুখে ফেলে মঙ্গলবারই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ১২০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লেবাননের মাটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ও তীব্র বোমা হামলার ঘটনা। অথচ, যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে ইরান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, লেবাননে ইসরায়েলের সব ধরনের সামরিক হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

এদিকে, ভারত সফর শেষে নিজ দেশে ফেরার পথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে বলেছেন, "যেভাবেই হোক, চুক্তির মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো উপায়ে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতেই হবে।" তিনি অবশ্য এ-ও জানিয়েছেন যে, চলমান আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, সংঘাত বন্ধ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এই প্রাথমিক সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে সুরাহা করতে অন্তত আরও ৬০ দিনের মতো বাড়তি সময় পেতেন। কিন্তু রোববারের এই আকস্মিক হামলা সেই হিসাবনিকাশ উল্টে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে এই প্রলয়ংকরী যুদ্ধের সূচনা হয়। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে নজিরবিহীন বিঘ্ন ঘটছে। ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার চরম মূল্য চোকাচ্ছে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাধারণ মানুষ।


মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যেন এক অন্তহীন গোলকধাঁধা। একদিকে আলোচনার টেবিলে শান্তির সুবচন, অন্যদিকে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত বোমা হামলা—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই দ্বিমুখী নীতি শান্তি প্রতিষ্ঠার সদিচ্ছা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি কেবল একটি সামুদ্রিক পথ নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনি। এই ধমনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের যে নোংরা খেলা চলছে, তার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও বিশ্ব অর্থনীতি। যুদ্ধবিরতির নামে কালক্ষেপণ এবং একই সঙ্গে লেবানন ও ইরানে সামরিক আগ্রাসন প্রমাণ করে যে, প্রকৃত শান্তির চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও জ্বালানি তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই এখানে মুখ্য উদ্দেশ্য। এই সংঘাত দ্রুততম সময়ে কূটনৈতিক পথে সমাধান না হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের যে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হচ্ছে, তা পুরো বিশ্বকে এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

শান্তি আলোচনার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলা: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ার...

R
Roksana | 27 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার