Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

শুভেন্দুর পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা কতটা নিরাপদ?

Roksana
27 August 2026, 06:47 PM পড়তে ১ মিনিট
শুভেন্দুর পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা কতটা নিরাপদ?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার শাসনামলে বাংলাদেশবিরোধী কঠোর অবস্থান ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 দীর্ঘ দেড় দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য থাকলেও, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিজয় এক অভাবনীয় পরিবর্তনের জন্ম দিয়েছে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি জয় করে ক্ষমতায় বসা বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই তার কট্টর বাংলাদেশবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তার নির্বাচনী প্রচারণা ও পরবর্তীতে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের প্রতি চরম বিদ্বেষ ফুটে উঠেছে।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণাত্মক মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়। তিনি কেবল বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই বিষোদগার করেননি, বরং ভারতীয় মুসলিমদেরও ‘বিদেশি’ বা ‘রোহিঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। হোটেল-মোটেলে রুম বুকিং থেকে শুরু করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশিদের ওপর এক প্রকার অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী পেট্রাপোল সীমান্তে সমাবেশ করে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া, সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশকে কটাক্ষ করা কিংবা ইসরায়েলের গাজা অভিযানের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশকে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ হুমকি তার অতি উগ্র মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোতে তিনি ‘হিন্দু বাঁচাও’ র‍্যালি আয়োজন করে জনমনে বিভেদের বীজ বপন করছেন। তার এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে সাধারণ মানুষকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অন্ধ্র প্রদেশ, ওড়িশা ও কেরালায় কর্মজীবী ও পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ভুক্তভোগীদের অনেকেই ভারতের স্থানীয় আদিবাসী বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, যারা কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে উগ্রবাদীদের শিকার হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে মাংসের দোকান বন্ধ, প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ এবং বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের মতো ঘটনাগুলোতে বিজেপির উগ্রপন্থি আদর্শের প্রতিফলন ঘটছে।

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ২০২৪ সালে যেখানে ১৭ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজারে। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও পর্যটন সম্পর্ক আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই শাসন ব্যবস্থা কেবল প্রতিবেশী দেশের জন্য নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ অসাম্প্রদায়িক কাঠামোর জন্যও এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং এটি উগ্র জাতীয়তাবাদের এক বিপজ্জনক মোড়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার যেভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তা দীর্ঘমেয়াদে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরকার কি এই বিদ্বেষের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ বজায় রাখবে, নাকি উগ্রবাদই হবে ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

শুভেন্দুর পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা কতটা নিরাপদ?

R
Roksana | 16 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার