মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের মেঘ সরিয়ে শান্তি ফেরানোর নতুন উদ্যোগে নেমেছে ওয়াশিংটন। তেহরানের সঙ্গে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে কোমর বেঁধে নামছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ নিরসনে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, আগামী সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা পার হওয়ার আগেই দ্বিতীয় দফার সরাসরি বৈঠক আয়োজনের জোর প্রস্তুতি চলছে। যদিও বৈঠকের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি, তবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে খুব দ্রুতই ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বসতে পারেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গত শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকটি ছিল মূলত কয়েক সপ্তাহের নিরলস প্রচেষ্টার ফল। সেই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও ওমান। মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশের সাথে আলোচনার অগ্রগতি এবং তাদের ইতিবাচক বার্তার ওপর ভিত্তি করেই এখন পরবর্তী বৈঠকের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি যদি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা অনুযায়ী শান্ত থাকে, তবে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে আবারও জেনেভা অথবা ইসলামাবাদের নাম ঘুরেফিরে আসছে। মূলত নিরপেক্ষ ভূমি এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করেই এই শহরগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই আলোচনাকে ফলপ্রসূ করতে সব ধরনের নমনীয়তা দেখাতে প্রস্তুত, যদি ইরান পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা প্রদান করে।
অন্যদিকে, তেহরানও এই আলোচনার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। তারা চাইছে ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত নয়, বরং সমান মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেই যেন চূড়ান্ত সমঝোতা হয়। বিশেষ করে দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এখন তাদের প্রধান দাবি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহলের ধারণা, এবারের আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতা অনেকটাই প্রশমিত হবে।
সংঘাতের চেয়ে সংলাপ সবসময়ই শ্রেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মতো দুটি চরম বৈরী রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট এক বা দুই বৈঠকে দূর হওয়া কঠিন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ যদি কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ নিতে পারে, তবে তা হবে বর্তমান দশকের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই বৈঠক কি সত্যিই শান্তির বার্তা আনবে, নাকি এটি কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল? বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।