যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন ইরাকের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি। সোমবার (১৩ জুলাই) ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি। গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কোনো বিদেশ সফর। এই রাষ্ট্রীয় সফরে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
রবিবার (১২ জুলাই) ইরাকের সরকারি মুখপাত্র হায়দার আল-আবৌদি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ (ইরাকি নিউজ এজেন্সি)-এর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র আবৌদি জানান, প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির সাথে ইরাকের একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল এই সফরে অংশ নেবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আল-জায়েদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ইরাকের তেল ও গ্যাস খাতের উন্নয়ন। ইরাকি মুখপাত্রের তথ্যমতে, সফরকালে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ - মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সই হবে। এর আওতায় ইরাকের জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের প্রভাব এড়াতে বিকল্প রপ্তানি পথ তৈরির বিষয়টি এই চুক্তিতে গুরুত্ব পাবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়াও ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি ওয়াশিংটনের বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচিত হবে। ইরাক সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব ধরনের অস্ত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় একক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার জন্য যে প্রচেষ্টা চলছে, তা সফল করতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরাকের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জ্বালানি খাতের সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। মার্কিন প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গ্যাস উত্তোলনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারলে ইরাক তার অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে সক্ষম হবে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ইরাকের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে এই সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ফলে আলী আল-জায়েদির এই ওয়াশিংটন সফরের ফলাফলের দিকে গভীর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।