কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো ধরনের সামরিক নৌযান চলাচলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো যুদ্ধজাহাজ অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাকে চরম মূল্য দিতে হবে।
পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক শক্তি ‘বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ বা আইআরজিসি-র নৌ শাখা এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ‘চরম পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে এই কড়া বার্তা প্রকাশিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বুদ্ধিমত্তা ও রণকৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ ক্ষমতা তাদের রয়েছে। বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে তারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। তবে কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা তারা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই বিধিনিষেধ তারা অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আসা একটি দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। আজ ভোরে ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, তাদের দুটি সামরিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। ইরান এই দাবি নাকচ করে দিয়ে একে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ ওই পথ অতিক্রম করা অসম্ভব।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে ইরানের এই কঠোর অবস্থান বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই শক্তি প্রদর্শন কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান আস্থার সংকট যে ক্রমশ একটি সামরিক সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে, এই হুঁশিয়ারি তারই প্রমাণ। আলোচনার মাধ্যমে এই উত্তেজনা প্রশমন না হলে বিশ্ব এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে।