Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

আমিরাতের শেয়ারবাজার থেকে উধাও ১২ হাজার কোটি ডলার

Roksana
29 August 2026, 01:58 AM পড়তে ১ মিনিট
আমিরাতের শেয়ারবাজার থেকে উধাও ১২ হাজার কোটি ডলার

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের সরাসরি আঘাত লেগেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক হৃৎপিণ্ড তথা শেয়ারবাজারে। গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির প্রধান দুই পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্রেফ ধুলোয় মিশে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে চরম দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে মধ্যপ্রাচ্যের এই অর্থনৈতিক পরাশক্তির সূচকে বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি প্রধান শেয়ারবাজার— দুবাই ও আবুবাহাবি— ক্রমাগত পতনের দিকে যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই বাজার থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১২০ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি ডলার সমপরিমাণ বাজারমূল্য হাওয়া হয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি সরিয়ে নেওয়ায় এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের সাধারণ সূচক এই সময়ে প্রায় ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বাজারটি থেকে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলারের মূলধন হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে, আবুধাবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই বাজারের সূচক প্রায় ৯ শতাংশ কমলেও এর বিশাল পরিধির কারণে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ৭ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে।

কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাত নয়, যুদ্ধের আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতিতেও। এই সংঘাতকালীন সময়ে কাতার ও বাহরাইনের শেয়ারবাজার যথাক্রমে ৪ ও ৭ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে। তবে অদ্ভুতভাবে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে সৌদি আরব ও ওমানের বাজারে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও দেশ দুটির শেয়ারবাজার সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও কাঁপন ধরিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার বা ‘ওয়াল স্ট্রিট’-এর অন্যতম সূচক ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’ প্রায় ৭ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং এর লক্ষ্য নিয়ে একেক সময় একেক রকম মন্তব্য আসায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এই অনিশ্চয়তাই মূলত বড় বাজারগুলোতে ধস নামার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ও ইসরায়েলের এই লড়াইয়ের ফলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ (পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ) কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদিও জ্বালানি সংকটে আমিরাত অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, তবে দেশটির অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস পর্যটন ও বিমান চলাচল খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে আকাশসীমা অনিরাপদ হয়ে ওঠায় হাজার হাজার নির্ধারিত বিমান চলাচল বা ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। বিশেষ করে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথ হিসেবে পরিচিত, সেটি এখন আগের তুলনায় অনেক নিস্তব্ধ।

উল্লেখ্য যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বড় একটি অংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। সরকারি হিসাব মতে, গত বছর এই খাত থেকে দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি ডলারের অবদান ছিল, যা মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ১৩ শতাংশ। বর্তমান যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে এই বিশাল আয়ের উৎসটি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অবশ্য এই ধসকে দীর্ঘমেয়াদী সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞ। দুবাইয়ের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাইথাম আউন মনে করেন, এটি বিনিয়োগকারীদের সাময়িক একটি মানসিক ধাক্কা মাত্র। তার মতে, একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি কেবল শেয়ারবাজারের ওঠা-নামা দিয়ে মাপা উচিত নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মজবুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং তারল্য (সহজে নগদ টাকায় রূপান্তর করার ক্ষমতা) ব্যবস্থাপনার কারণে তারা এই বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারবে। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো আমিরাতের তালিকাভুক্ত শেয়ারের মোট মূল্য এক ট্রিলিয়ন বা এক লক্ষ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল, যা মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই বিশাল আর্থিক ভিত্তিই তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাবে বলে তিনি আশা করেন।


মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে যে, বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতি কতটা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের যুদ্ধ কেবল সেখানে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ডিজিটাল পর্দার মাধ্যমে মুহূর্তেই তা বিশ্বের বড় বড় আর্থিক কেন্দ্রে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত গত কয়েক দশকে পর্যটন ও বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার যে চেষ্টা করেছে, যুদ্ধের কারণে আজ সেটিই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয় এবং বিশ্বনেতারা কীভাবে এর সমাধান করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আমিরাতসহ পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। শান্তি ছাড়া কোনো উন্নয়নই যে টেকসই নয়, শেয়ারবাজারের এই লাল বাতি যেন আমাদের সেই সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে। 

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

আমিরাতের শেয়ারবাজার থেকে উধাও ১২ হাজার কোটি ডলার

R
Roksana | 31 March 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার