Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ইরান যুদ্ধের এক মাস: যে সব চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

Roksana
29 August 2026, 01:58 AM পড়তে ১ মিনিট
ইরান যুদ্ধের এক মাস: যে সব চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের অগ্নিমূল্য, অন্যদিকে নিজ দেশে ক্রমাগত কমতে থাকা জনসমর্থন—সব মিলিয়ে এই যুদ্ধ এখন ওয়াশিংটনের জন্য এক বিশাল গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

:
বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী, ঠিক তখনই ইরানের সঙ্গে এক মাসের একতরফা যুদ্ধে জড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। তিনি কি একটি অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে এই সংঘাত থেকে সরে আসবেন, নাকি সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চোরাবালিতে পা দেবেন—এই প্রশ্নই এখন বিশ্ব রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয়। তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে চালানো এই অভিযানে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়নি। উল্টো ইরান এখনও পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন বিমানের (ড্রোন) মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হেনে চলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধটি মূলত ট্রাম্পের নিজের ইচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া একটি সংঘাত, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ চান না এবং আলোচনার মাধ্যমে এই চোরাবালি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন

। যদিও তিনি চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জন প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ট্রাম্প পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এই প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া। তবে তেহরান এই প্রস্তাবকে ‘অন্যায্য ও অবাস্তব’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের নতুন ও কঠোর মনোভাবাপন্ন নেতৃত্ব মনে করছে, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে টিকে থাকাই তাদের জন্য বড় বিজয়। তারা বিশ্বাস করে, তারা আমেরিকার চেয়ে বেশি সময় ধরে প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে।

এদিকে, সামরিক দিক দিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন চাপে রয়েছে। ‘মহাকাব্যিক রোষ’ (অপারেশন এপিক ফিউরি) নামের একটি বিশাল বিমান হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বিজয় ঘোষণা করতে চান। 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ও উন্মুক্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো বিজয়ই টেকসই হবে না। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা বর্তমানে ইরানের হুমকির মুখে রয়েছে। ইউরোপীয় মিত্ররা এই জলপথ রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প ইতিমধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

দেশের অভ্যন্তরেও ট্রাম্পের পায়ের তলার মাটি ক্রমেই সরে যাচ্ছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বনিম্ন। তার কট্টর সমর্থকরাও এখন তেলের বাড়তি দাম নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়ছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের ভেতরেও এই যুদ্ধ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে। সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিরা অভিযোগ করছেন যে, ইরান অভিযানের লক্ষ্য এবং পরিধি নিয়ে তাদের যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইসরায়েলের অবস্থান। তারা আশঙ্কা করছে, ট্রাম্প হয়তো নিজের ইমেজ বাঁচাতে এমন কোনো দুর্বল চুক্তি করবেন যা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থলবাহিনী পাঠায়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো আরেকটি দীর্ঘ ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের সূচনা হবে। আপাতত স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলে মার্কিন রাষ্ট্রপতির দপ্তর জানালেও, তারা সব পথই খোলা রেখেছে।


ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান পরিস্থিতি যেন এক ‘শাঁখের করাত’। তিনি একদিকে বিশ্ববাজারকে শান্ত করার বার্তা দিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করছেন। যুদ্ধের এই গোলকধাঁধায় পড়ে তিনি নিজের দেওয়া ‘বিদেশি যুদ্ধ এড়িয়ে চলা’র প্রতিশ্রুতি নিজেই ভঙ্গ করেছেন। 

এই সংঘাত যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে অপূরণীয়। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কি তার অহংকার বিসর্জন দিয়ে একটি অর্থবহ কূটনীতির পথে হাঁটবেন, নাকি এক অজানা ধ্বংসের দিকে বিশ্বকে ঠেলে দেবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। যুদ্ধের দামামা বাজানো যতটা সহজ, তা থামিয়ে শান্তি আনা তার চেয়েও বহুগুণ কঠিন।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের এক মাস: যে সব চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

R
Roksana | 28 March 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার