Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে, হিসাব হবে ভোটের পর: কোচবিহারে মোদি

BNJK
29 August 2026, 01:57 AM পড়তে ১ মিনিট
তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে, হিসাব হবে ভোটের পর: কোচবিহারে মোদি

 পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সীমান্তবর্তী রাজনীতির মাঠ। কোচবিহারের নির্বাচনী জনসভা থেকে অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

 পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। গতকাল রোববার কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাস মেলা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনসভায় তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। মোদি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে জনবিন্যাস বদলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের নিজস্ব ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছে, যা স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভাষণে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (এসআইআর) প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিতেই তৃণমূল এই আইনের বিরোধিতা করছে। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ দুর্নীতির ভারে জর্জরিত উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি দুর্নীতিকারীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। তৃণমূলের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "তৃণমূলের পাপের ঘড়া এখন পূর্ণ। নির্বাচনের পর তাদের প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব নেওয়া হবে এবং দুর্নীতিকারীরা বাংলা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে।"

ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করে মোদি বলেন, এবার পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নাগরিকত্ব সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এ নানাবিধ অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিভিন্ন জনসভায় মমতা অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে ‘ভোটচুরি’র পাঁয়তারা করছে। মূলত কেন্দ্রীয় সংস্থা ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর ক্ষোভ এখন তুঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যেন কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা না ঘটে, সে জন্য নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

 পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশ’ ও ‘দুর্নীতি’ সবসময়ই স্পর্শকাতর বিষয়। প্রধানমন্ত্রী মোদির কড়া হুঁশিয়ারি এবং মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ প্রমাণ করে যে, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পক্ষে নাকি পরিচয়ের রাজনীতির পক্ষে রায় দেবেন, তা ৪ মে পরিষ্কার হবে। নির্বাচনী উত্তাপ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে নষ্ট না করে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে, হিসাব হবে ভোটের পর: কোচবিহারে মোদি

B
BNJK | 06 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার