Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: মার্কিন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

Roksana
29 August 2026, 01:56 AM পড়তে ১ মিনিট
উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: মার্কিন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা ছাড়িয়ে এখন তা এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব ও অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। প্রস্তাব প্রত্যাখানের পরপরই ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে তেহরান নতুন করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোয় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা আরও প্রবল হয়ে উঠেছে।


ইরান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওয়াশিংটনের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তেহরানের মতে, এই প্রস্তাব কেবল একপাক্ষিক এবং এতে ইরানের স্বার্থকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে এই প্রস্তাবকে ‘অতিরিক্ত’ দাবি করে তা বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে দেশটি। তবে কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে ইরান সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানের ছোঁড়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।

পাল্টা জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো (স্থাপনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম) লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সাথে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর (লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী) বিভিন্ন আস্তানা ও কার্যালয়েও ব্যাপক আঘাত হেনেছে ইসরায়েল। এদিকে এই যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যমতে, ইয়েমেন থেকে উড়ে আসা দুটি চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে। প্রথমবারের মতো হুথিরা সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আক্রমণ শুরু করায় এই সংঘাত এখন আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর পাশাপাশি লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলাও অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতির উত্তাপে নতুন করে ঘি ঢেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এক চরম সতর্কবার্তায় বলেছেন, ইরান যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি (পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ও বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পথ) দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করে এবং এই পথ খুলে না দেয়, তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক ধরনের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, যদিও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার কিছু ক্ষীণ সংকেত পাওয়া গেছে, তবে সামরিক আগ্রাসনের মুখে থাকা অবস্থায় ইরানের মূল মনোযোগ এখন কেবলই ‘আত্মরক্ষা’র দিকে। অন্যদিকে, তেহরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। যদি ইরান শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, তবে বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়টি চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোও তৎপর হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো ফলপ্রসূ আলোচনার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য অবরোধের খবরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার কবলে পড়বে, যার ঢেউ বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বাজারেও আছড়ে পড়বে।


মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংঘাত এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। একদিকে যেমন শক্তি প্রদর্শনের লড়াই চলছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনাগুলো বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ নিয়ে যে দড়িটানাটানি শুরু হয়েছে, তার চূড়ান্ত মাসুল দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাবে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হবে। শান্তি স্থাপনের জন্য কেবল সামরিক হুমকি নয়, বরং কার্যকর এবং সম্মানজনক সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, এই আগুনের আঁচ থেকে বিশ্বের কোনো প্রান্তই নিরাপদ থাকবে না।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: মার্কিন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

R
Roksana | 30 March 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার