ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা নিহতের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলাটি এখন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
মিরপুরের নিজ বাসা থেকে স্ত্রী ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলাটির তদন্তে নতুন মোড় নিল। এতদিন থানা পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করলেও, চাঞ্চল্যকর এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় এখন এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার প্রসিকিউশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ১৪ মে থেকে মামলাটি ডিবির তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে অভিনেতা যাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয় যে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল রোববার। তবে তদন্ত সংস্থা ডিবি পুলিশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। ফলে মামলার কার্যক্রম নিয়ে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আগামী ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমার নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে অভিনেতা যাহের আলভী ও ইকরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে। তবে সুখী পরিবারের আড়ালের এই কলহ এবং সবশেষ এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শোবিজে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু থেকেই নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে। ইকরার বাবার করা এই অভিযোগের ভিত্তিতে এখন গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখছে। পারিবারিক অশান্তি কীভাবে একটি সংসারকে বিচ্ছেদের পরিবর্তে শেষ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের উৎসগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিবির পক্ষ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর মামলার গতিপ্রকৃতি আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আসামি পক্ষের দাবি এবং বাদী পক্ষের অভিযোগ—সবকিছু বিবেচনা করেই তদন্তকারী কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
একটি দাম্পত্য সম্পর্কের করুণ পরিণতি কেবল দুটি মানুষের জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। গৃহবধূ ইকরার মৃত্যু আমাদের সমাজের পারিবারিক সম্পর্কের অস্থিরতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। মামলাটি ডিবির হাতে যাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশা দেখছে। আমরা আশা করি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করবে। পারিবারিক কলহ নিরসনে আমাদের সমাজ ও পরিবারের সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।