ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন বলিউডের দুই প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী শাবানা আজমি ও প্রকাশ রাজ। দীর্ঘ ২৩ দিন ধরে চলা অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তারা সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান। বিশিষ্টজনদের এই আন্তরিক আহ্বানের পর শেষ পর্যন্ত আন্দোলনরত তিন শিক্ষার্থী তাদের দীর্ঘ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।
পরীক্ষায় অনিয়ম দূর ও শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার দাবিতে যন্তর মন্তরে বেশ কিছু দিন ধরে টানা কর্মসূচি পালন করছেন একদল শিক্ষার্থী। ভারতের সাম্প্রতিক নিট (জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা) ও নেট (জাতীয় যোগ্যতা পরীক্ষা) পরীক্ষাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক (সরকারি) পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস এবং জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দিল্লির রাজপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের জীবন বিপন্ন করে আমরণ অনশনে বসেন।
আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে যন্তর মন্তরের অনশনস্থলে সশরীরে হাজির হন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব শাবানা আজমি ও প্রকাশ রাজ। তারা সরাসরি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দাবিগুলোর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানান এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধি করেন।
বক্তব্যে শাবানা আজমি বলেন, “আমাদের প্রজন্ম নতুন প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব পালনে কোথাও না কোথাও ব্যর্থ হয়েছে। তবে আপনারা যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এভাবে অকুতোভয়ে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আপনারা এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।” এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এই কঠিন অনশন কর্মসূচি থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান।
একইভাবে জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবির পক্ষে আজীবন থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আন্দোলনকারীদের বুকে টেনে নিয়ে বলেন, “আমি সবসময় আপনাদের এই যৌক্তিক লড়াইয়ের সঙ্গে আছি।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই বক্তব্যটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
কেবল চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষই নন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে আরও যোগ দিয়েছিলেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তাদের সবার সমন্বিত আশ্বাস এবং জোরালো অনুরোধের পর তিন অনশনকারী শিক্ষার্থী তাদের ২৩ দিনের অনশন ভাঙেন। আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি ভারতের সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং রাজপথের পাশাপাশি আইনি ও রাজনৈতিকভাবে এই লড়াই এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনশন প্রত্যাহারের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা আমাদের বিশিষ্টজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনশন ভাঙলাম, তবে আমাদের মূল লড়াই চলবে।” তারা মনে করেন, শাবানা আজমি ও প্রকাশ রাজের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের পাশে পাওয়া তাদের আন্দোলনের জন্য বড় ধরনের নৈতিক বিজয়।
এদিকে, তিন শিক্ষার্থী অনশন ভাঙলেও এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক এখনো তার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের সাধারণ সমন্বয়ক পর্ষদ জানিয়েছে, অনশন প্রত্যাহার হলেও আন্দোলন পুরোপুরি থেমে যায়নি। শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপক অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অহিংস লড়াই অব্যাহত থাকবে।