দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে রূপালি পর্দায় ঝড় তুলল বলিউড তারকা শহিদ কাপুর, রাশমিকা মান্দানা ও কৃতি শ্যানন অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ‘ককটেল ২’। মুক্তির প্রথম দিনেই চলচ্চিত্র ব্যবসার আয়ের হিসাবে (বক্স অফিস) রীতিমতো বাজিমাত করেছে সিনেমাটি। মুক্তির আগে থেকেই দর্শকমহলে এই সিনেমা নিয়ে যে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, প্রথম দিনের টিকিট বিক্রি ও আয়ের পরিসংখ্যানে ঠিক তারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর নির্ভরযোগ্য সূত্র ও বিনোদন প্রতিবেদকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রেক্ষাগৃহে (সিনেমা হল) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনের আগেই ছবিটির প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়েছিল। কেবল এই অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ঘরে তুলে নেয় প্রায় ৫ কোটি ৫৭ লাখ রুপি। বিপুল এই সাড়া দেখে চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষকদের (ট্রেড অ্যানালিস্ট) প্রাথমিক ধারণা ছিল, মুক্তির প্রথম দিনে ভারতের বাজারে সিনেমাটির আয় হয়তো ১০ থেকে ১২ কোটি রুপির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
কিন্তু বিনোদন দুনিয়ার সব পূর্বাভাস ও হিসাব-নিকাশকে চমকে দিয়ে মুক্তির প্রথম দিনেই অভাবনীয় সাফল্য নিজেদের পকেটে পুরেছে ‘ককটেল ২’। শুধু ভারতেই প্রথম দিনে সিনেমাটি আয় করেছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। এই বিপুল আয়ের মাধ্যমে সিনেমাটি ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ব্যাপক সফল চলচ্চিত্র ‘ককটেল’-এর প্রথম দিনের আয়ের পুরোনো রেকর্ডও ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, এক যুগ আগে মুক্তি পাওয়া সইফ আলি খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টি অভিনীত প্রথম পর্বটি মুক্তির দিনে ১০ কোটি ৯৫ লাখ রুপি আয় করেছিল। সেই তুলনায় নতুন এই পর্বটির (সিক্যুয়েল) উদ্বোধনী আয় নিঃসন্দেহে একটি বিশাল উল্লম্ফন।
তবে সাফল্যের এই জয়রথ কেবল ভারতেই আটকে নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গন বা বিদেশি বাজার থেকেও দারুণ সাড়া পাচ্ছে তারকাবহুল এই ছবিটি। বিদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো থেকে প্রথম দিনেই সিনেমাটি প্রায় ৪ কোটি রুপি আয় করেছে। ভারতের নিজস্ব বাজার এবং আন্তর্জাতিক আয়—সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী মুক্তির প্রথম দিন শেষে ‘ককটেল ২’-এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে চোখধাঁধানো ২০ কোটি ২০ লাখ রুপিতে।
চলচ্চিত্র বোদ্ধা ও বিশ্লেষকদের মতে, এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূলত বেশ কয়েকটি নিয়ামক দারুণভাবে কাজ করেছে। প্রথমত সপ্তাহান্তের (ছুটির দিন) সুবিধা, দ্বিতীয়ত মুক্তির আগেই এর সুমধুর গানগুলোর তুমুল জনপ্রিয়তা। এর পাশাপাশি শহিদ-রাশমিকা-কৃতির একেবারে নতুন ও সতেজ জুটির রসায়ন বড় পর্দায় দেখতে দর্শকদের বিপুল কৌতূহল সিনেমাটির প্রতি আকর্ষণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের প্রদর্শনীগুলোতে (শো) দর্শক উপস্থিতি ছিল একেবারে কানায় কানায় পূর্ণ।
প্রথম দিনের এমন চমকপ্রদ ও রেকর্ডভাঙা সাফল্যের পর চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের তীক্ষ্ণ নজর এখন সপ্তাহান্তের মোট আয়ের দিকে। বর্তমান এই দর্শক-উন্মাদনা ও টিকিট বিক্রির গতি ধরে রাখতে পারলে, ছুটির দিনগুলো শেষ হওয়ার আগেই সিনেমাটি অনায়াসেই ৫০ কোটি রুপির মাইলফলকে (ক্লাব) প্রবেশ করবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করছেন চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।