জধানীসহ সারা দেশে আজ রোববার বিভিন্ন সরকারি দফতর, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাসের ঘোষণা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনগুলোই আজকের দিনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দিনের শুরুতেই নজরে থাকছে আইন মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জনস্বার্থে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশকে জাতীয় সংসদে আইন হিসেবে পাস করার বিষয়ে বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই সংবাদ সম্মেলনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় রাজধানীতে শুরু হচ্ছে এক বিশাল টিকাদান কর্মসূচি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ১০টি অঞ্চলে আজ থেকে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান ২০২৬’ পরিচালিত হবে। সকাল ৮টায় বনানীর কড়াইল বস্তি এলাকার এরশাদ মাঠে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে এই ক্যাম্পেইনটি মাসজুড়ে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্য খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) প্রাঙ্গণে। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব, টিকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং এই রোগ মোকাবিলায় আধুনিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করবেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আজ বড় কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য। বেলা ১১টায় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনের মুক্তিযোদ্ধা হলে গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি এবং সেই সময়ের ত্যাগী মানুষের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়াই এই সভার মূল লক্ষ্য।
এছাড়াও রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও সামাজিক সংস্থা তাদের নির্ধারিত বার্ষিক ও তাৎক্ষণিক কর্মসূচি পালন করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব আয়োজনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আজকের এই কর্মসূচিগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, দেশ একদিকে যেমন আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের পথে হাঁটছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করার চেষ্টাও সমানতালে চলছে। বিশেষ করে অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিকল্পনাগুলো মাঠ পর্যায়ে কতটা ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়ন হয়।